নড়াইল পৌর-মেয়রের অনিয়ম দূর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে বিক্ষোভ সমাবেশ করলেন,পৌর-বাসি

Uncategorized অপরাধ

  1. মো:রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ
    নড়াইলে দুর্নীতিগ্রস্থ পৌরমেয়রকে অতিদ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নড়াইল পৌরসভার সর্বস্তরের জনগনের ব্যানারে আজ (১০ মে) মঙ্গলবার বিকেলে শহরের সুলতান মঞ্চ চত্বর থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে,পুরাতন বাসটার্মিনালে এসে শেষ হয়।
    এসময় বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখেন,সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখ,যুবলীগ নেতা এস এম ফয়সাল সাদি,ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম বাপ্পি, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিঠুন বিশ্বাস রাজু, সন্দিপ মজুমদার,সজল আহম্মেদ শ্রাবন,সাজ্জাদ হোসেন ববি,জেলা ছাত্রলীগের স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আল-আমিন মোল্যা প্রমূখ।এসময় বক্তরা অভিযোগ করে বলেন,ইজিবাইক থেকে আদায়কৃত ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৬ লক্ষ টাকা জমা দিয়ে বাকি ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন,পৌর-মেয়র। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারির নামে মিথ্যা ভাউচার দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ৩ কোটি ৩৫ লক্ষ ৩ হাজার ৬’শ ৭৭ টাকা আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ করেন বক্তরা। এসময় পৌর মেয়রের দুর্নীতির একটি ফিরিস্তি তুলে ধরেন আয়োজকরা। যার একটি কপি সাংবাদিকদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
    এ সময় বিক্ষোভকারী’রা শ্লোগান দেন দূর্নিতিবাজ মেয়র আনঞ্জুমান আরার দুই গালে জুতা মারো তালে তালে,দূর্নিতিবাজ মেয়রের দ্রুত অপশরন করতে হবে এবং মেয়রের চাঁর পাসে চলা ফেরা করা ও মেয়রে নিজ গাড়িতে থাকা বিএনপির দোশোরদের লালন পালনকারী আনঞ্জুমান আরার পদত্যাগ করতে হবে।
    সেই সাথে আওয়ামীলিগের দলীয় নৌকা প্রতিক নিয়ে মেয়র হয়ে কেন বিএনপি জামাতের লোকদারা দলের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করা সহ বিএনপি দালালদের ইন্দনে দলীয় কর্মিদের নামে মিথ্যা মামলা করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ঠ করছে বলেও জানান।
    এদিকে,নাম পরিচয় জানাতে অনিচ্ছুক একাধীক ব্যক্তী জানান,নির্বাচনের আগে স্বামীর নাম ও দলের নাম ভাঙ্গীয়ে নৌকা প্রতিক এনে মেয়র হয়ে,কেন তিনি দলীয় ছেলেদের নিয়ে না চলে বিরোধীদলীয় বিএনপির দোশরদের নিয়ে তাদের ইন্দনে আওয়ামী-লীগের দলীয় কর্মিদের নামে মিথ্যা মামলা করে দলে সন্মান নষ্ট করছেন।চয়ন হত্যাকারী’র সন্তান কে নিয়ে মেয়র কেন সব সময় চলা ফেরা করে এবং কেন চয়ন হত্যাকারী বিএনপির সন্ত্রাসী’র ছেলে ও বিএনপির সদস্যদের নিয়ে আওয়ামী-লীগ ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার দলীয় সন্মান নষ্ট করতে বিপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও জানান।বিক্ষোভকারী’রা জানান,উচ্ছাস,শাওন ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধন এর নামে যে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন মামলা করেছেন,দূর্নিতিগ্রস্থ মেয়র আনঞ্জুমান আরা সেই মামলা দ্রুত অপসারণ করতে হবে এবং মিথ্যা মামলা অপসারন না করলে পরবর্তি কঠিন পদক্ষেপ নিবেন বলেও হুশিয়ারী দেন বিক্ষোভকারী’রা।এ বিষয়ে পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন,আমি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহন করেছি এক বছর পার হয়েছে। এখন পর্যন্তু কোন প্রকল্প আসেনি, পূর্বের মেয়রের দেয়া টেন্ডারের কাজ করা হয়েছে মাত্র। এখানে অর্থ আত্মসাতের প্রশ্নই ওঠে না।তিনি আরও বলেন,সন্ত্রাসীরা নিজেদের অপরাধ ঢাকতেই আমার বিরুদ্ধে কাল্পনিক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছে।উল্লেখ্য,গত ২৬ এপ্রিল শহরের পুরাতন বাসটার্মিনালে পৌরসভার অস্থায়ি কার্যালয়ে পৌরসভার ১৪২৯ সালের হাট-বাজার, টার্মিনাল ইজারা সংক্রান্ত সভা চলছিল। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধনসহ ৮/১০ জন মেয়রের কার্যালয়ে অগ্নেয়স্ত্রসহ প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় চাঁদার দাবিতে মেয়রকে হত্যাসহ পৌরসভায় প্রবেশ করতে না দেয়ার হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক পৌর পরিষদ জরুরুী সভায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।এ ঘটনায় উচ্ছাস,শাওন ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধনসহ অজ্ঞাত ৮/১০ জনকে দায়িকরে ওই রাতেই মেয়র বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন বলেও জানান।এদিকে সুশিল সমাজের দাবি,নড়াইল জেলা, আওয়ামী-লীগের ঘাটি কিন্তু সেই জেলাই কেন কিশের জন্য দলের নেতা কর্মিগণ,দলের ভাবমূর্তি খূন্ন করে দলকে ধংশ করার চেষ্টা করছেন।কেন দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ দলীয় কন্দোল সমাধান করতে পারছেন না।যদি দলের এ কন্দোল আপনারা,দলে থেকে সমাধান করতে না পারেন,তাহলে দল থেকে তাদের কে,মাননীয় প্রধান মন্ত্রী’র উচিৎ দলের বড় পদের নেতাদের বহিশকার করা বলেও জানান।এটা না হলে নড়াইল জেলা থেকে আওয়ামী-লীগের নাম ও সন্মান সর্বতই ধংশ হবে বলেও জানান।