জমিজমার বিরোধের জের ধরে আপন ভাগনেকে ফাঁসাতে ইদ্রিসকে হত্যা

Uncategorized অপরাধ

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার সালুয়াটেকি, টোক এলাকার বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর ইদ্রিস হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার করল পিবিআই গাজীপুর, এ খবর সংশ্লিষ্ট সুত্রের।
জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট ২০২০ সালে সকাল ৮ টায় ইদ্রিস (৩০), পিতা-মফিজ উদ্দিন, সাং-সালয়াটেকি, থানা-কাপাসিয়া, জেলা-গাজীপুর এর মৃত দেহ কাপাসিয়া থানাধীন সালুয়াটেকি সাকিনস্থ এজাহার ভুক্ত ১নং আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর নানার বাড়ীর দক্ষিণ পাশে পুকুর পাড়ে গলায় ধারালো অস্ত্র দ্বারা গুরুতর জখম অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ সংক্রান্তে নিহতের মাতা মোর্শেদা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় এজাহার ভুক্ত ১০ জন ও অজ্ঞাতনামা ০৩/০৪ জন আসামীর বিরুদ্ধে কাপাসিয়া থানায় মামলা নং-২৮, তারিখ-২৫/০৮/২০২০, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল
কোড রুজু করেন। মামলাটি কাপাসিয়া থানা পুলিশ প্রায় ৪ মাস তদন্ত করে এবং তদন্তাধীন অবস্থায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার মাধ্যমে পিবিআই গাজীপুর জেলায় পরবর্তী তদন্তের জন্য প্রেরণ করে।

অতিরিক্ত আইজিপি পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার. বিপিএম (বার), পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার, মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এর সার্বিক সহযোগীতায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হাফিজুর রহমান. পিপিএম মামলাটি তদন্ত করেন।
আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, এজাহার ভুক্ত ১নং আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর সাথে তার নানার বাড়ীর সম্পত্তির ওয়ারিশ নিয়ে তার সাথে বিরোধ দেখা দেয়। ভিকটিম ইদ্রিস ও তার মামা রফিক তার বড় বোনের ছেলে মামলার এজাহারে উল্লেখিত ১নং আসামী জাহিদের পক্ষ নিয়ে তাকে তার মায়ের প্রাপ্য সম্পত্তি দখলে সহযোগীতা করে।

পরবর্তীতে আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর সাথে ইদ্রিস এর মনোমালিন্য হলে ইদ্রিস আলী আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর মামা রবিন ভুইয়ার সাথে যোগ দেয়। পরবর্তীতে ঘটনার ৩ (তিন) দিন আগে টোক বাইপাস মোড়ে এজাহারে উল্লেখিত আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে টোক বাইপাসে ভিকটিম ইদ্রিসকে ভয় দেখায়।

এই সুযোগে এজাহারে উল্লেখিত আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর মামা রবিন ভূইয়া তার সহযোগী আসামীদের নিয়ে নিজের কাঠের মিলে বসে ইদ্রিসকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ভিকটিম ইদ্রিস এর বন্ধু আসামী মেজবাহ উদ্দিনকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে ঘটনার দিন রাত ২ টার সময় ঘটনাস্থলে ডেকে আনার জন্য পরিকল্পনা করে।

উক্ত পরিকল্পনা মোতাবেক পূর্বে গ্রেফতারকৃত এজাহার বর্হিভূত আসামী মজবাহ উদ্দিন ঘটনার দিন রাত ২ টার সময় সু-কৌশলে ভিকটিম ইদ্রিস আলীকে অত্র মামলার ঘটনাস্থল রবিন ভূইয়ার বাড়ীতে নিয়ে আসে।

পূর্ব থেকে উক্ত স্থানে অবস্থানরত ঘটনায় জড়িত আসামীরা রবিন ভূইয়ার নিকট থেকে ১২ লক্ষ টাকা চুক্তির বিনিময় গলা চেপে ধরে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে ও এলোপাথারীভাবে মারপিট করে ইদ্রিসকে হত্যা করে এজাহারে উল্লেখিত আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ এর নানা বাড়ীর যে ঘরে মাঝে মধ্যে সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ ঘুমাতো ঐ ঘরের পিছনে পুকুরপাড়ে ঘটনাস্থলে ইদ্রিস এর মৃতদেহ ফেলে রেখে চলে যায়।

এ বিষয়ে পিবিআই এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান আজকের দেশ ডটকম কে বলেন, এজাহারে উল্লেখিত জহির আহসান জাহিদ তার মায়ের ওয়ারিশ প্রাপ্ত সম্পত্তি নেওয়া জন্য তার মামা রবিন ভূইয়াকে বললে তার মামা রাজি না হওয়ায় সে স্থানীয় রফিক এবং রফিকের ভাগিনা ভিকটিম ইদ্রিস আলীর সহযোগীতা নেয়। এই সুযোগে ভিকটিম ইদ্রিস আলী জাহিদের দখলকৃত সম্পত্তি বিক্রয়ের কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে এজাহারনামীয় আসামী জাহিদের কথা বলে তার অগোচরে টাকা নেয়।

এই বিষয়টি জাহিদ বুঝতে পারায় ভিকটিম ইদ্রিস ও তার মামা রফিকের সাথে তার বিরোধ হয়। ভিকটিম ইদ্রিস ও তার মামা রফিক পুনরায় এজাহার নামীয় আসামী জাহিদের মামা রবিন ভূইয়ার পক্ষ অবলম্বন করে।

পরবর্তীতে রবিন ভূইয়া তার পৈত্রিক সম্পত্তি তার ভাগ্নেএজাহারনামীয় আসামী সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ কে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মেজবাহ উদ্দিনের সহযোগীতায় ভিকটিম ইদ্রিস আলীকে ডেকে এনে তার সহযোগী আসামীদের দিয়ে ভিকটিম ইদ্রিসকে হত্যা করে মৃত দেহ রবিন ভূঁইয়ার নিজের বাড়ীর যে ঘরে মাঝে মধ্যে সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ ঘুমাতো ঐ ঘরের পিছনে পুকুরপাড়ে ঘটনাস্থলে ইদ্রিস এর মৃতদেহ ফেলে রেখে চলে যায়।
ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী আব্দুর রব ভূইয়া @ রবিন ভূইয়া (৫৫), পিতা-মৃত হাজী আব্দুল মোতালিব ভূইয়া, সাং-সালুয়াটেকি, থানা-কাপাসিয়া, জেলা-গাজীপুর আদালতে আত্মসমর্পন করলে আদালত উক্ত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১ (এক) দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আসামী আব্দুর রব ভূইয়া @ রবিন ভূইয়া (৫৫), পিতা-মৃত হাজী আব্দুল মোতালিব ভূইয়া, সাং-সালুয়াটেকি, থানা-কাপাসিয়া, জেলা-গাজীপুরকে পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে গত মঙ্গলবার ১০ মে আদালতে সোপর্দ করা হলে উক্ত আসামী নিজেকে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামীদের নাম উল্লেখ করে এই হত্যাকান্ডের বিষয়ে পরিকল্পনা এবং অন্যান্য আসামীদের কার কি ভূমিকা ছিল বিস্তারিত বর্ণনা করে আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।


বিজ্ঞাপন