নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ বর্তমান সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির যথাযথ বাস্তবায়নকল্পে মাঠ পর্যায়ে বিজিবি’র অভিযানিক কর্মকাণ্ড এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ১৩ মে, রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত দু’টি পৃথক অভিযানে ১,২৭,৯৩,৭৮৪ (এক কোটি সাতাশ লক্ষ তিরানব্বই হাজার সাতশত চুরাশি) টাকা মূল্যমানের ৪০,৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, বাংলাদেশী ১০,৭৮৪ টাকা সমমান মায়ানমারের প্রচলিত মুদ্রা ২,৩০,২০০ কিয়াত, আনুমানিক ১৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, ১টি সিএনজি এবং ৩টি মোবাইল ফোন সহ সংঘবদ্ধ মাদক এবং মানব পাচারকারীদলের ৭ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার ১৩ মে, রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, অত্র ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ টেকনাফ বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-৭ থেকে আনুমানিক ৮০০ গজ উত্তর-পূর্ব দিকে কেরাংতলী নামক এলাকায় নাফ নদীর পাশে একটি বাড়ীতে মায়ানমার হতে পাচার করে আনা মাদকদ্রব্য মজুদ রাখা আছে।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আনুমানিক ১ টা ৩০ মিনিটের সময় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর ব্যাটালিয়ন সদর হতে একটি চোরাচালান প্রতিরোধ টহলদল দ্রুত বর্ণিত এলাকায় গমন করতঃ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সন্দেহভাজন বাড়ীটিতে তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করে।
উক্ত বাড়ীতে অবস্থানরত ৪ (চার) জন ব্যক্তিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশী এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে শোয়ার ঘরে গ্যাস সিলিন্ডারের পাশে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৩০,০০,০০০ (ত্রিশ লক্ষ) টাকা মূল্যমানের ১০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মায়ানমারের প্রচলিত মুদ্রা ২,৩০,২০০ কিয়াত (বাংলাদেশী ১০,৭৮৪ টাকা সমমান) এবং বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকদের বিদেশে পাচারকালে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক রেখে দেওয়া আনুমানিক ৮৮,০০০ (আটাশি হাজার) টাকা মূল্যমানের আনুমানিক ১৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে উক্ত আসামীদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে হ্নীলা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ চৌধুরীপাড়া এলাকায় ব্যাটালিয়ন সদর এবং হ্নীলা বিওপি’র চোরাচালান প্রতিরোধ টহলদল কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উক্ত অভিযানে আটককৃত ব্যক্তিদের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ১নং স্লুইসগেট নামক স্থান হতে ৯০,০০,০০০ (নব্বই লক্ষ) টাকা মূল্যমানের ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করা হয়। উল্লেখ্য, বর্ণিত বাড়ীটি হতে আটককৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে, তারা পূর্ব হতে পারিবারিকভাবেই মাদক চোরাচালান এবং বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিকদের মায়ানমারসহ বিদেশে পাচারের সাথে জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদান করে।
এ পর্যন্ত তারা আনুমানিক ১৫০-১৬০ জন বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিককে বিদেশে পাচার করেছে বলে স্বীকার করে।
উল্লেখ্য, আসামীদের নিকট হতে উদ্ধারকৃত মায়ানমার এর কিয়াত এবং স্বর্ণালঙ্কার জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার এর ট্রেজারী শাখায় জমা করতঃ আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান এবং অবৈধভাবে বিদেশে মানব পাচারের সাথে জড়িত থাকার দায়ে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অপরদিকে শুক্রবার ১৩ মে, আনুমানিক ৩ টার সময় অত্র ব্যাটালিয়নের দমদমিয়া বিওপি’র চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনাকালে ঢাকা-টেকনাফ মহাসড়কে কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী একটি সিএনজি অটো রিক্সাকে তল্লাশী করার জন্য থামানো হয়।
উক্ত সন্দেহভাজন সিএনজিটিতে সর্বমোট ৩ জন আরোহী ছিল। তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশী করে তিনজনের শরীরের বিভিন্ন অংশে অভিনব কায়দায় লুকায়িত অবস্থায় সর্বমোট ৬,৯৫,০০০ (ছয় লক্ষ পঁচানব্বই হাজার) টাকা মূল্যমানের ৬০০ (ছয়শত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১টি সিএনজি এবং ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, আটককৃত আসামীদেরকে জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট, সিএনজি এবং মোবাইল ফোন সহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
