ডিএনসি’র ঢাকা মেট্রো: (উত্তর) এর কর্মকর্তাদের মাদক বিরোধী অভিযানে বিশাল সাফল্য : ৪২ হাজার ২০০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ৫ জন গ্রেফতার 

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রীন চ্যানেল থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ডিএনসি’র ঢাকা মেট্রো: (উত্তর) কার্যলয়ের  কর্মকর্তাদের মাদক বিরোধী বিশেষ এক অভিযানে  ৪২ হাজার ২০০ শত পিস ট্যাপেন্টাডলসহ কলকাতা হতে আগত ৫ যাত্রী গ্রেফতার হয়েছে, এ খবর সংশ্লিষ্ট সুত্রের।


বিজ্ঞাপন

জানা গেছে,  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারসহ নেশার মরণ ছোবল থেকে তরুন সমাজকে রক্ষার জন্য ঢাকা মহানগরীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রোঃ কার্যালয় (উত্তর) এর জোরালো কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ,ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ মজিবুর রহমান পাটওয়ারী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর) এর উপপরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী পরিচালক, ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর)  মোঃ মেহেদী হাসান এর নেতৃত্বে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত টিম কর্তৃক গত মঙ্গলবার  ২০ সেপ্টেম্বর  রাত সাড়ে ৯ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রীন চ্যানেল অবস্থান নেয় । আসামীরা  গ্রীন চ্যানেল পার হলে কলকাতা থেকে  ঢাকাগামী ইউএস বাংলা ফ্লাইট নং-২০৪ এ আগত ৫ জন যাত্রীর কাছে হতে ৪২ হাজার ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে যা যাবৎ কালের ট্যাপেন্টাডল এর সর্ববৃহৎ চালান।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের নাম, ঠিকানা ও পরিচয় : 
মোঃ সোলাইমান (৪৪), পিতা- মোঃ শফি, মাতা- সেরু আক্তার, স্থায়ী সাং- উরকিরচর, থানা- রাউজান, জেলা- চট্টগ্রাম। পেশাঃ ব্যবসা। মোঃ হৃদয় ইসলাম রাজু (২৯), পিতামৃত: নূর ইসলাম, মাতা- আলেয়া বেগম, স্থায়ী সাং- গবড়াপাড়া ঋষখালী, থানা- হরিণাকুন্ড, জেলা- ঝিনাইদাহ । পেশাঃ টিসিবির ডিলার। এ, কে, এম আবু সাইদ (৪৭), গ্রেফতার পিতামৃত: আব্দুল সোবান, মাতা: জাহানারা বেগম, সাং- নরেন্দ্রপুর, থানা- মনোহরদী, জেলা- নরসিংদী। পেশা : একটি প্রাইভেট কোম্পানীর ম্যানেজার।আশীক সাইফ (৩৬), গ্রেফতার, পিতামৃত: এফ এম সাইফুল ইসলাম, মাতা- সুরাইয়া বেগম, সাং-৯১/৪, ফ্রি স্কুল ষ্ট্রীট, কাঠাল বাগান, থানা- কলাবাগান, ডি.এম.পি, ঢাকা। পেশাঃ একটি প্রাইভেট কোম্পানীর এক্সিকিউটিভ এবং মোঃ ফারুক (৩৫), গ্রেফতার, পিতা: মোঃ ইসমাইল, মাতা: দিলনাহার বেগম, সাং-দক্ষিণ তারাবানিয়ারচর, ওয়ার্ড নং-৭, থানা + জেলা-কক্সবাজার। পেশাঃ স্টেশনারী দোকানের ব্যবসা।

মাদক  ব্যবসার কৌশল : মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ছিল একটি চক্র পার্শ্ববর্তী  দেশ ভারত থেকে ফেন্সিডিল ও ট্যাপেন্টাডলের বড় চালান এনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি’র কর্মকর্তারা অনুসদ্ধান করতে থাকে এবং মূলহোতা মোঃ সোলাইমান এর বিষয়ে অবগত হয়।

মূলহোতা সোলাইমান মাসে ৪-৫ বার ভারতের কলকাতায় যাতায়াত  করতো এবং প্রতিবারে সে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে ট্যাপেন্টাডলসহ অন্যান্য অবৈধ মাদক দেশে নিয়ে আসত। এ কাজে সে তার একাধিক সহযোগিকে ব্যবহার করতো।চলতি বছরের  গত আগষ্ট  মাসে এ চক্রের একজন সদস্যকে ফেন্সিডিলসহ বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয়।

ব্যবসার কৌশল হিসেবে তারা কলকাতা গমনের ক্ষেত্রে যশোর বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহার করতে এবং দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে রুট হিসেবে ব্যবহার করতো।

চক্রটিকে যেভাবে গ্রেফতার করা হয় :  প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানতে পারে যে, সোলাইমানের নের্তৃত্বে ট্যাপেন্টাডলের একটি বড় চালান হযরত শাহজালাল আন্তঃ বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা ফ্লাইট নং-২০৪ যোগে কলকাতা হতে ঢাকায় আনা হচ্ছে। সে তথ্যের ভিত্তিতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা  হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবব্দরে গ্রীণ চ্যানেলে অবস্থান নেয়।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ডিএনসি’র  অপর একটি টিম এ্যারাইভাল ইন্ট্রিগেট দিয়ে প্রবেশের সময় হতে সোলাইমান ও সহযোগিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। আসামীগণ ইমিগ্রেশন শেষ করে ল্যাগেজ বেল্ট হতে তাদের লাগেজ সংগ্রহ করে কাস্টমস চেকিংয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করে গ্রীন চ্যাানেলে পার হলে তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সোলাইমান ও তার সহযোগিগণ স্বীকার করেন যে তারা কলকাতা হতে বিপুল পরিমাণে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট নিয়ে এসেছেন। তাদের ব্যাগ তল্লাশি করে

১নং আসামী মোঃ সোলাইমানের ট্রালি ব্যাগের ভিতর কাপড় দ্বারা লুকানো অবস্থায় ৩০০০ (তিন হাজার) পাতা প্রতি পাতায় ১০ পিস করে মোট ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) পিস Tapentadol ট্যাবলেট এবং তার পাসপোর্ট (নং-A08065976) এবংবডিং পাস জব্দ করা হয়।

২নং আসামী মোঃ হৃদয় ইসলাম রাজু ডান হাতে ঝুলানো স্কুল ব্যাগের ভিতর ৪০০ (চারশত) পাতা প্রতি পাতায় ১০ পিস করে মোট ৪০০০ (চার হাজার) পিস Tapentadol ট্যাবলেট এবং পাসপোর্ট (নং-EE0775711) এবংবডিং পাস জব্দ করা হয়।

৩নং আসামী এ, কে, এম আবু সাইদ ডান হাতে ধৃত শপিং ব্যাগের ভিতর ৩০০ (তিনশত) পাতা প্রতি পাতায় ১০ পিস করে মোট ৩০০০ (তিন হাজার) পিস Tapentadol ট্যাবলেট এবং পাসপোর্ট (নং-A07951113) এবং বডিং পাস জব্দ করা হয়।

৪নং আসামী আশীক সাইফ ডান হাতে ধৃত শপিং ব্যাগের ভিতর ৩০০ (তিনশত) পাতা প্রতি পাতায় ১০ পিস করে মোট ৩০০০ (তিন হাজার) পিস Tapentadol ট্যাবলেট এবং পাসপোর্ট (নং-A06829820) এবং বডিং পাশ জব্দ করা হয়া।

৫নং আসামী মোঃ ফারুক ডান হাতে ধৃত শপিং ব্যাগের ভিতর ২২০ পাতা প্রতি পাতায় ১০ পিস করে মোট ২২০০ (দুই হাজার দুইশত) পিস Tapentadol ট্যাবলেট এবং পাসপোর্ট (নং-A01919373) এবং বডিং পাস জব্দ করা হয়। ৫ জন আসামীর কাছে থেকে  সর্বমোট ৪২ হাজার ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) মোতাবেক সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রোঃ কার্যালয় (উত্তর) কর্তৃক ভবিষ্যতে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বদ্ধপরিকর।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *