ক্যান্টনমেন্ট সার্কেল এসিল্যান্ড জালাল উদ্দিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র অনলাইনে আপডেট, সপ্তাহে পাঁচদিন গণশুনানি সহ দ্রুত তম সময়ের মধ্যে জমির নামজারি ও খারিজসহ নানামুখী সেবায় পাল্টে গেছে ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিস। ভূমি অফিসে সেবা নিতে নেই তৃতীয় পক্ষের দৌরাত্ম। কোনো হয়রানি ছাড়াই মিলছে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ভূমি অফিসের নানামুখী সেবা পেয়ে খুশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। যারা এক সময় তৃতীয়পক্ষের সহায়তা ছাড়া জমির কোনো কাজই করতে পারতেন না, তারাই এখন নিজের সমস্যার কথা নিজেরাই ভূমি অফিসে এসে বলতে পারছেন। সেবাগত এই পরিবর্তনের সাথে একটি চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়ে ভূমি অফিসের পরিবেশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজও এগিয়ে চলছে।

সম্প্রতি ভূমি অফিসে গিয়ে কথা হয় দক্ষিণ খানের বাসিন্দা ফিরোজ মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে একবার খারিজ চ্যায়া চারদিন ঘুরতে হইছে, এখন আমাগো সেবা আমরা নিশ্চিন্তে পাইতাছি আমরা সন্তুষ্ট। জব্বর নামের একজন বলেন আগে আমরা নানান ভাবে প্রতারিত হয়েছি। (দালাল) ধইরা অনেক টাকা দিয়া কাজ করছি। এসিলেন্ট আসার পর থেকে আমাদের ভাগ্যটা যেন অন্যরকম, ভূমি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম আচরন আমরা মুগ্ধ হয়েছি। খিলক্ষেতের বাসিন্দা আব্বাস আলী বলেন আর তারিখ দিছিলো আইজক্যা। আইলাম আর পায়া গেলাম। বাড়তি ট্যাহাও দেওয়া লাগে নাই।’
জমির মিসকেসের শুনানির জন্যে আসা বিভিন্ন বাসিন্দারা সহ ক্যান্টনমেন্ট আলম মিয়া জানান, আমার জমির বিষয়ে সমস্যা জানিয়ে দরখাস্ত দিছিলাম। তিন মাস হয়।এসিল্যান্ড স্যার ( জনাব জালাল উদ্দিন (১৮৫৯৯) সহকারী কমিশনার (ভূমি),ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেল, ঢাকা নিজে আমাকে সমস্যার সমাধান করে দিছে আমি আনন্দিত । উত্তরখান ভুক্তভোগী তাসলিমা বলেন জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পারিবারিক ভাবে অনেকজামেলা সইতে হইছে কিন্ত জালাল স্যার অল্পক্ষণই সময়ের আমার সম্যাস সমাধান করে দিলেন।৩’বছর দালালি খপ্পরে পড়ে অনেকদিন ঘুরাঘুরা করেছি সমাধান হয়নি বলেন তাসলিমা।
সরজমিনে দেখা যায় কারো অভিযোগ থাকলে মনোযোগ দিয়ে সব শুনে সমাধান করার চেষ্টা করেন। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা সবাই খুশি। ভূমি অফিস থেকে আনন্দ উল্লাসে বাহিরে আসলেন আকলিমা খাতুন। এত
খুশির কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তরে বলেন, পূর্বে প্রায় ১৭ মাস আগে আমার জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে এই ভূমি অফিসে এসেছিলাম তখন এতটা দায়িত্ববোধ ও গুরুত্বসহ কাজ করতে দেখিনি। আর এখন সাধারণ মানুষ বর্তমান এসিল্যান্ড স্যারের সাথে সরাসরি দেখা করে তার সমস্যার কথা বলতে পারেন এবং তার সুষ্ঠু সমাধানও পেয়ে যান। এমনকি এসিল্যান্ড স্যার সাধারণ মানুষের কথা শোনার জন্য মাঝে মাঝে বাহিরে এসে খুজ করে।তাকে কেউ খুঁজতে হয়রানি কিংবা সময় নষ্ট না হয়। সেই সাথে ভূমি অফিসকে করেছেন দালাল মুক্ত।
ক্যান্টনমেন্ট সার্কেল ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে,।
ভোগান্তি ছাড়া স্বল্পসময়ের মধ্যে সেবা প্রার্থীরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন এখন। শুনানিকালে কোনো পক্ষের কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে আবেদন বাতিল না করে তাকে সময় দেওয়া হচ্ছে। কোনো কাগজের নকল পেতেও কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় না। নানামুখী এসব সেবার পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিসের পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ভূমির উপস্থাপিত নকশা ও কর্মপদ্ধতির প্রশংসা করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। গ্রাহকদের সেবা বিষয়ে জানতে চাইলে জালাল উদ্দিন জানান, এখানে যোগদানের পর থেকে ডিসি স্যার ও ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় ভূমি সংক্রান্ত সকল ফাইল ও সেবা অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। যিনি সেবাপ্রার্থী কেবলমাত্র তাকেই অফিসে আসতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে করে তৃতীয়পক্ষের ভোগান্তি থেকে তারা রক্ষা পাবে।
সেবার বিষয়ে তিনি জানান, যে সেবা অফিস থেকে দেওয়া সম্ভব তাৎক্ষণিক তা দেওয়া হচ্ছে। যেটাতে সময় লাগবে সেক্ষেত্রে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএস অথবা ফোনে নির্ধারিত তারিখ বলে দেওয়া হচ্ছে। আর যে সেবা এখান থেকে দেওয়া সম্ভব নয় সেই সেবা প্রাপ্তির বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষ মেধাবী এসিলেন্ড জালাল উদ্দিন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একজন অফিসার চাইলে শহর উপজেলার অনেক উন্নতি ঘটাতে পারেন। বিষয়টি আমাদের নাড়া দিয়েছে। সৃজনশীল কাজ করার মানসিকতা যেমন আছে, তেমনি ডিসি স্যার ও সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। এ কারণে ভূমি অফিসের সেবার মান পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।
রাজস্ব সার্কেল ক্যান্টনমেন্ট ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জালাল উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, অবৈধভাবে আবাদি জমির মাটি ভেকু দিয়ে কাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্থ জরিমানা ও বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি সরকারি খাস জমি উদ্ধারকাজে ব্যাপক তৎপরতা চালান এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন