নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশে সাপের বিষ কেনাবেচার বৈধতা না থাকলেও রুট হিসেবে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাপের বিষ পাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার এসব জানান।

তিনি বলেন, দেশের বাইরে থেকে এই সাপের বিষ কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশে এসেছে। দুই-তিন হাত ঘুরে হয়তো এই চক্রের মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার হতো। সাপের বিষ ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে বাংলাদেশে ফার্মাসিউটিক্যালে এটি ব্যবহারের বৈধতা নেই। যে কারণে এটি বাংলাদেশের ব্যবহারের সুযোগও নেই। আমরা এখনো নিশ্চিত না যে এটা ঠিক কোন দেশ থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। এটা এলসির মাধ্যমে আনা হয়নি। জব্দ করা কনটেইনারগুলোতে লেখা দেখা গেছে ‘মেড ইন ফ্রান্স’।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাপের বিষ পাচার হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এটার বৈশ্বিক মার্কেট রয়েছে, তবে বাংলাদেশে বিক্রির কোনো বৈধতা নেই।
তিনি জানান, যথাসম্ভব এই অবৈধ সাপের বিষ পাচারের জন্য বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। পুরো তদন্ত শেষ হলে এটা স্পষ্ট হবে কে বা কারা কোন জায়গা থেকে আমদানির পর এটা পাচার করছিল। ইতোমধ্যে কয়েকটি চালান বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়ার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ উদ্ধার করেছে সিআইডি। এসময় চক্রের মূলহোতা মো. মামুন তালুকদার ও তার সহযোগী মো. মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে দুইটি বড় লকার ও ৬টি কাঁচের কৌটায় ভরা সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়।
প্রতিটি বোতলের গায়ে লেখা ছিল, COBRA Snake Poison of France, Red Dragon Company, Cobra Code No-80975, Made in France।