স্বরূপকাঠির সোহাগদল ইউপি মার্কেটের দুর্নীতির শেষ কোথায়

অপরাধ বরিশাল সারাদেশ

পিরোজপুর প্রতিনিধি : বিতর্কিত জায়গা নিয়ে মামলা চলমান ছিল বিগত সময় থেকেই সোহাগদল মৌজার ইউনিয়ন পরিষদের মার্কেট করার জায়গাকে কেন্দ্র করে। কাগজপত্র অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জায়গার মালিক দাবী করে মো. মিজান, মো. আনিস, মো. হুমায়ুন ও সাজ্জাদ গংরা। এদিকে মামলা মোকদ্দমা উপেক্ষা করে এলাকার অন্য একটি পক্ষের সমর্থন নিয়ে ২০১০ সালে নির্মিত হয় এলজিইডির ইউনিয়ন পরিষদ মার্কেট। আর মার্কেট নির্মাণের পর থেকেই দুর্নীতির চরম বাসা বেঁধেছে। গত ৯ বছর আগে সাবেক সাংসদ শাহ আলম সরকারি অর্থায়নে নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এলজিইডির অর্থায়নে সোহাগদল ইউনিয়ন পরিষদের মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করেন তৎকালীন সময়ে। প্রাথমিক ভাবে ১৪ টি রুম করা হয় সরকারী টাকা ব্যায় করে বিতর্কিত জায়গায়। পরিষদ সংলগ্ন বাজারে পাকামার্কেট করার পর থেকেই পরিষদের চেয়ারম্যান সমস্ত আয়ের হিসাব নিকাশের দায়িত্ব নেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে একটি পক্ষের বিরুদ্ধে বিগত সময় থেকেই। দায়িত্ব পালনের পর পরই লোলুপ দৃষ্টি পড়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের। অভিযোগের তীর শাইনিং স্টার কিন্ডারগার্টেন বর্তমান সভাপতিকে নিয়েও। ক্ষমতার পালা বদলে স্থানীয় রাজনীতিতেও পরিবর্তন আসে। পরবর্তী সময়ে এলজিইডি মার্কেটের দোকান গুলো দু ভাগে ভাগ করে টাকার সমবন্টন করা হয়। অর্থাৎ ৭টি দোকানের ভাড়া পাবে শাইনিং স্টার কিন্ডারগার্টেন। আর বাকী ৭টি পাবে ইউনিয়ন পরিষদ। শুরু হয়ে গেল সরকারি সম্পতির উপর মার্কেটের রশি টানাটানি। একদিকে সাবেক সাংসদের শাইনিং স্টার আর অপরপক্ষ সোহাগ দল ইউনিয়ন পরিষদ। বিগত এমপি আউয়ালের সময়ে রশিটানাটানি সমপর্যায়ে ছিল। কিন্তু সরকারি দলের বর্তমান সময়ে নেতৃত্ব পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে শাইনিং স্টার কিন্ডারগার্টেন সভাপতি শাহ আলমের কব্জায় চলে যায় পুরো মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ। অর্থাৎ বর্তমানে ১৪টি দোকানের পুরো টাকাই চলে যায় শাইনিং স্টার কিন্ডার গার্টেনের তত্বাবধানে। আর পিছনে কে কল কাঠী নাড়ায় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন মহল গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, এলজিইডি মার্কেট নিয়ে যা যা হচ্ছে তা অন্যায়। আসলে দুর্নীতির বাসা বেধেছে ইউনিয়ন পরিষদের মার্কেট নির্মাণের পর থেকেই। নাম না প্রকাশের শর্তে স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা গনমাধ্যম কর্মীদের জানান, মার্কেটের প্রতি দোকান থেকে বৎসরে ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। সর্বমোট ২০টি দোকান থেকে বছরে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার মত উত্তোলন করা হয়। আবার বিগত সময়ে প্রতি দোকান থেকে অগ্রিম গড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তুআজ পর্যন্ত এলজিইডির অর্থায়নে সোহাগদল ইউনিয়ন পরিষদের মার্কেটের আয় ব্যায় নিয়ে ঘাপলাই রয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। মিডিয়ার প্রশ্নে উপজেলা প্রকৌশলীর প্রধান মিডিয়ার কোন প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে এলাকার বিঞ্জ সুশিল সমাজের লোকজন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আসলে সোহাগদলের ইউনিয়ন পরিষদের মার্কেট নির্মাণের পর থেকেই দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। আসলে রক্ষক হয়েছে ভক্ষকের ভূমিকায়। আর এ কারণেই বাংলাদেশের করুন অবস্থা। সরকারি সম্পদের হিসাব নিকাশের সঠিক জবাব দিহিতা না থাকায় দুর্নীতির বাসা বেঁধেছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এর প্রতিকার হওয়া দরকার দেশের কথা ভেবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.