বিআইডাব্লিউটিএ’র উচ্ছেদ অভিযানে নওয়াপাড়া ভৈরব নদীতে ৩দিনে ৫০টি অবৈধ লং-বুম জেটি উচ্ছেদ

Uncategorized বিশেষ প্রতিবেদন

সুমন হোসেন, (যশোর) ঃ
যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার শিল্প-বানিজ্যে ও বন্দর নগরী নওয়াপাড়া নৌ বন্দরে অবৈধ তালিকায় থাকা ৬০টি ঘাটের মধ্যে ৫০টি অবৈধ লং-বুম স্থাপনকারী ঘাটের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ কতৃপক্ষের নৌ বন্দর কর্মকর্তা। এই উচ্ছেদ অভিযান শরু হয়েছে গত বুধবার সকাল থেকে।
প্রথম দিনে নওয়াপাড়া ও তালতলা এলাকায় অবস্থিত ৯টি অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ঘাট উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে।

দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৩ টি অবৈধ ঘাটের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তৃতীয় দিন মঙ্গলবার ১৬ আগস্ট সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৮টি অবৈধ ঘাটের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নওয়াপাড়া ভৈরব নদীর উপর অবৈধভাবে নির্মিত লং-বুম
৩ দিনে মোট উচ্ছেদ হয়েছে ৫০টি।

বাংলাদেশ অভ্যান্তরিণ নৌ যোগাযোগ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এর পরিচালনায় উচ্ছেদ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন নওয়াপাড়া নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ, বিআইডব্লিউটিএ’র খুলনার যুগ্ম পরিচালক মোঃ আশরাফ হোসেন, বিআইডব্লিউটিএ’র নওয়াপাড়ার সহকারী পরিচালক আশরাফ হোসেন, খুলনার সহকারী অর্থ কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ আকন, স্থানীয় নৌ পুলিশের এস আই আসাদুজ্জামান, সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রথম দিনে উচ্ছেদ হওয়া ঘাট গুলির মধ্যে রয়েছে, তালতলা এলাকায় অবস্থিত সরকার ট্রের্ডাস , তালতলা স্টোন হাউজ, এস এ এন্টার প্রাইজ, এমপি শাহিন চাকলাদারের চাকলাদার স্টোন হাউজ, নওয়াপাড়া এলাকার ব্রাইট ঘাট এক, ব্রাইট ঘাট দুই, অধিকারী ট্রের্ডাস, শংকরপাশা এলাকার রফিক গাজী ও জলিল গাজীর ঘাট।

দ্বিতীয় দিনে যেসব ঘাটের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার করা হয়েছে
সেগুলো যথাক্রমে , নওয়াপাড়া ফেরীঘাট সংলগ্ন পোটন ট্রেডার্স, ইউনাইটেড ঘাট-১, ইউনাইটেড ঘাট-২, এমপি রণজিৎ কুমার রায়ের ছেলের ঘাট নিয়তী ট্রেডার্স, সরকার ট্রেডার্স ঘাট, এমপি আফিল উদ্দিনের ৬টি অবৈধ ঘাট, পরশ আটা ময়দা ও সূজীর মালিক আনিসুর রহমানের ৩টি অবৈধ ঘাট, জয়েন্ট ট্রেডিং ঘাট, ফজলু শেখ ঘাট, ইজাহার মোল্যা ঘাট ও মালোপাড়া ঘাট।
তৃতীয় দিনে উচ্ছেদ হওয়া ঘাট গুলো হলো, চেঙ্গুটিয়া শেখ ব্রাদার্স এর ৩নং ঘাট, ফারুকের ঘাট, নজরুলের ঘাট, বোরাক খাঁন ঘাট, রাজধানীর ২টি ঘাট, বিসমিল্লাহ -এর ২টি ঘাট, মাহাবুব ব্রাদার্স এর ঘাট, তারিক শেখের ঘাট, রহমতুল্লাহ ঘাট, বিদুৎ ঘাট, মহাকালে অবস্থিত দিপু ষ্টোন হাউজের ২টি ঘাট, নজরুলের ঘাট ও জটোর ঘাট।

নওয়াপাড়া নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ আজকের দেশকে জানান, নওয়াপাড়া নদী বন্দর এলাকায় প্রথম দিনে ৯টি, দ্বিতীয় দিনে ২৩টি ও তৃতীয় দিনে ১৮টি। ভৈরব নদীতে থাকা মোট ৫০টি অবৈধ লং-বুম স্থাপনকারী ঘাটে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি। সকল অবৈধ ঘাট উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, উচ্ছেদ পরবর্তী কোন ঘাটের মালিক যদি এই ধরনের লং-বুম স্থাপন করে, জেটি নির্মাণ করেন। তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় জেল ও জরিমানা করা হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.