” নিজেই দুর্নীতিগ্রস্থ অথচ তিনি-ই করছেন দুর্নীতির তদন্ত ” বহাল তবিয়তে মাউশির উপ-পরিচালক এনামুল!

Uncategorized আইন ও আদালত


!! মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি গতকাল বুধবার ভৈরবে জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজে অনিয়মের তদন্ত করেছে যার নেতৃত্বে ছিলেন এনামুল হক হাওলাদার! জানা গেছে- ঘুষ নেওয়া, বকেয়া পাওনা পাইয়ে দিতে ঘুষ দাবি করা, আদালতের রায় অমান্য করে পদোন্নতি বঞ্চিত করা, ঘুষের দাবি করে ফাইল আটকে রাখা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণের বহু অভিযোগ রয়েছে তার নামে। ইতিমধ্যে তার শাস্তি দাবি করে পদ থেকে সরিয়ে দিতে আবেদনও করেছেন দুই জন কলেজ শিক্ষক। এর আগেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে! এতকিছুর পরও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর !!



নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন মাউশির আলোচিত- সমালোচিত ও বিতর্কিত সেই দুর্নীতিবাজ উপ-পরিচালক এনামুল হক হাওলাদার, নিজেই দুর্নীতিগ্রস্থ অথচ তিনি-ই করছেন দুর্নীতির তদন্ত।
এমপিও ছাড়ে ঘুষ নেওয়া, বকেয়া পাওনা দিতে চার কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পরও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (কলেজ-২) এনামুল হক হাওলাদার কর্তৃপক্ষের আস্থাভাজন হিসেবে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে না কোন ব্যবস্থা। কেবল তাই নয়,গতকাল বুধবার (২৩ নভেম্বর) ভৈরবের একটি কলেজে দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়েছিলেন নিজেই দূর্নীতিতে অভিযুক্ত এনামুল হক হাওলাদার! বিষয়টি নিয়ে মাউশিসহ শিক্ষা প্রশাসনে শুরু হয়েছে তোলপাড়! কর্মকর্তারাই প্রশ্ন তুলছেন এই কর্মকর্তার খুঁটির জোর নিয়ে। কর্তৃপক্ষই কেনইবা তাকে দিয়েই দূর্নীতির তদন্ত করাচ্ছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তাদের! মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি গতকাল বুধবার ভৈরবে জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজে অনিয়মের তদন্ত করেছে যার নেতৃত্বে ছিলেন এনামুল হক হাওলাদার! জানা গেছে- ঘুষ নেওয়া, বকেয়া পাওনা পাইয়ে দিতে ঘুষ দাবি করা, আদালতের রায় অমান্য করে পদোন্নতি বঞ্চিত করা, ঘুষের দাবি করে ফাইল আটকে রাখা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণের বহু অভিযোগ রয়েছে তার নামে। ইতিমধ্যে তার শাস্তি দাবি করে পদ থেকে সরিয়ে দিতে আবেদনও করেছেন দুই জন কলেজ শিক্ষক। এর আগেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে! এতকিছুর পরও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর! গত ২ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিসংখ্যান বিষয়ের প্রভাষক মো. মোফাজ্জল হোসেন।

আর পরদিন গত ৩ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জের আবাস উদ্দিন খান সোহাগপুর মডেল কলেজের অর্থনীতির প্রভাষক শেখ হাবিবুর রহমান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো লিখিত অভিযোগে উপ-পরিচালক এনামুল হক হাওলাদারকে পদ থেকে অপসারণের বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে লিখিত অভিযোগে আদালতের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি চান প্রভাষক শেখ হাবিবুর রহমান।

প্রভাষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘উপ-পরিচালক এনামুল হক হাওলাদার তার অফিস স্টাফদের মাধ্যমে আমার কাছে টাকা দাবি করেন। আমি তা দিতে রাজি হইনি। আমি টাকা দিতে না পারায় পদোন্নতি বঞ্চিত হই।’

এনামুল হক হাওলাদারকে তার পদ থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে লিখিত আবেদন করেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিসংখ্যান) বিষয়েরে প্রভাষক মো. মোফাজ্জল হোসেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপরিচালক এনামুল হক হাওলাদারের বিরুদ্ধে ফাইল আটকে হয়রানি এবং শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ আনেন।

প্রভাষক মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘অধিদপ্তরে আবেদন করলেও দীর্ঘদিন এনামুল স্যার আমাদের কাজ আটকে রাখেন। তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তিনি অন্য শিক্ষকদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন।’

এনামুল হক এর আগেও রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর মডেল কলেজের এমপিও ছাড় করাতে ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন তার স্টাফ এবং জনৈক কথিত এক মিডিয়া কর্মীর মাধ্যমে। কিন্তু টাকা নিয়েও আদালতের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়নে বাঁধা দেন। ফলে ২০০৮ সালের পরিবর্তে ২০২০ সাল থেকে এমপিও ছাড় করা হয়ে।

ফলে বকেয়া পড়ে যায় আগের বছরের এমপিওর টাকা। এই বকেয়া টাকা চাইলে এনামুল হাওলাদার একই লোকজনের মাধ্যমে বকেয়া পাওনার অর্ধেক টাকা দাবি করেন। এনামুল হাওলাদারকে টাকা না দেওয়ায় মিথ্যা তথ্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে। মহাপরিচালক তার কথামতো রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর মডেল কলেজের বকেয়া দেওয়ার বিষয়ে অনুমতি চেয়ে পত্র দেন সচিবের কাছে। কিন্তু ওই পত্রে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন, আদালত অবমনাসহ বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া যায়!

এই ঘটনায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদকে আদালত অবমাননার নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আবুবকর সিদ্দিক (রাজন)। উচ্চ আদালতের রায় অমান্য, আদালত অবমাননার মামলার নির্দেশ না মানা ও অসৎ উদ্দেশে রায়ের অপব্যাখ্যার কারণে তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.