মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী গোলাম মোল্লা টাকার অভাবে পাইনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি,পা ভ্যান চালিয়ে দিন

Uncategorized সারাদেশ

মো:রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ
নড়াইলের কড়লা ইউনিয়নের কড়লা গ্রামের মিত্র কলেজ মাঠের উত্তর পাসে গোলাম মোল্লার নাম ভুলে গেছে সেই দিনের সব মুক্তিযোদ্ধা”রা। ১৯৭১ সালে দেশের জন্য যে যোদ্ধা”রা যুদ্ধ্য করে ছিলেন,তাদের রাজাকার বাহিনীদের খব”রা খবর এনে দিতেন মুক্তিযোদ্ধাদের সেই গোলাম মোল্লা,আজ অভাবের কারনে হতে পারিনি দেশের মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ভুক্ত খেতাব,হতে পারিনি দেশের সম্পদ। তৎকালিন সময় যুদ্ধের জন্য দেশে হাহাকার চলছিলো,তখন এই গোলাম মোল্লা মুক্তিযোদ্ধাদের খবর আনা নেয়াসহ বাড়ি থেকে খাবার রান্না করে মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়াতেন,অনেক বার রাজাকার ও মেলেটারি’র হাতে ধরা পড়েছে,আর রাজাকার”রা বার বার বলেছে ওই গোলাম মোল্লা মুক্তিবাহিনির সদস্য, গোলাম মুক্তি বাহিনির খচোড় ওকে ছাড়া যাবে না ও আমাদের খোঁজ করতে এসেছে,তখন ওই গ্রামের বিনয় মিত্তি ভয়ে দেশ ত্যাগ করে ভারত চলে যায়। সেই সুবাদে বিনয় মিত্তি”র বাড়ি রাজাকার”রা ঘাটি গেড়ে থাকতেন কখন কোথায়,মুক্তিযোদ্ধা”রা হামলা চালায়,সেই সব খবর ওই রাজাকার”রা পৌছে দিতো,এই কথা কাটাকাটির এক পর্যায় গোলাম মোল্লাকে অনেক মারধোর করেন রাজাকারসহ মেলেটারিরা। পরে হাত পা জড়িয়ে ধরে জিবন বাচিয়ে পালিয়ে যায়,তবুও মুশুড়ি,বিড়গ্রাম,খড়রিয়া’র মুক্তিযোদ্ধাদের নাম পরিচয় বা ঠিকানা বলে নি এ গোলাম মোল্লা। আজ সেই মুক্তিযোদ্ধা’র সহকারী গোলাম মোল্লা পাইনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি,পাইনি কোন মুক্তিযোদ্ধা’র কার্ড,পাইনি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম।মুক্তিযোদ্ধা মৃত-জয়নাল মোল্লা,সাং,বাগডাঙ্গা,
মুক্তিযোদ্ধা আকরাম শেখ,সাং খররিয়া,এনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধের সময় দেশের জন্য কাজ করেছেন।
গোলাম মোল্লার বয়স,৭০ বছর,পিং,মমিন মোল্লা,তৎকালিন গোলাম মোল্লা একজন চটপটে যুবক ছিলেন। গোলাম মোল্লা তখন থেকেই দারিদ্র পরিবারে বড় হয়েছে বলে টাকা পয়সার জন্য হতে পারেনি একজন মুক্তিযোদ্ধা,অভাবের কারনে পাইনি মুক্তিযোদ্ধা’র স্বীকৃতি,আজ শেষ জীবনে গোলাম মোল্লা পায়ে চালিত ভ্যান চালিয়ে ৩ মেয়ে ও ১ ছেলেকে মানুষ করে বিবাহ্ দিয়েছেন। গোলাম মোল্লার ছেলে বিবাহ্ করার পরে,বাবা মা কে রেখে আলাদা থাকেন,এবয়সে গোলাম মোল্লা নিজের সংসার চালাতে,পা ভ্যান চালিয়ে জিবিকা নির্বাহ করেন। এদিকে,গোলাম মোল্লা বলেন,
নড়াইলে টাকার বিনিময়ে অনেকে আজ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে খেতাব নিয়েছেন কিন্তু টাকার অভাবে দেশের জন্য জিবন উৎসর্গকারী মুক্তিযোদ্ধাকালীন সাহাজ্যকারী গোলাম মোল্লা,আমি পাইনি তার স্বীকৃতি।
আজ সবার দারে দারে ঘুরছি,আমি গোলাম মোল্লা,নিজে বৃদ্ধ বয়সে নড়াইল শহরে পা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে কিন্তু যারা দেশের খতি করার জন্য,রাজাকারী খেতাব নিয়ে দেশকে ধংশ্য করার জন্য রাজাকারগিরী করেছেন,আজ তারা বড় বড় মুক্তিযোদ্ধা,কিন্তু আমি দেশের জন্য জিবন বাজি রেখে কাজ করেছি আমি টাকার অভাবে হতে পারিনি মুক্তিযোদ্ধা।


Leave a Reply

Your email address will not be published.