সিআইডির সাইবার টিম রাজধানীর কাফরুল ও চট্টগ্রামের খুলশী থেকে পর্নগ্রাফির ভাইরাল চক্রের ২ সদস্য কে গ্রেফতার করেছে

Uncategorized আইন ও আদালত


নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ সিআইডির সাইবার টিম রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে এ কাজের অন্যতম হোতা তমালিকা আক্তার নামে এক নারী এবং চট্টগামের খুলশী থেকে আবু সাইদ রনিকে গ্রেফতার করে।
পর্নগ্রাফির ভয় দেখিয়ে ব্লাকমেইলার চক্রের সদস্যদের কবলে পড়ে একজন ভুক্তভোগী সাইবার ক্রাইম ইউনিটে আবেদন করেন উক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরাইবার ক্রাইম ইউনিট কর্তৃক ২ জন গ্রেফতার ও হয়েছে। ভুক্তভোগী এই বেক্তির আকুতি, আবেদন টা এমন ছিলো,

!! আমি অত্যন্ত বিপদে পড়ে জরুরি ভাবে আপনাদের সহযোগিতার জন্য নক দিয়েছি। আজকে বেলা ২ টা ৩০ মিনিটের সময় আমার টেলিগ্রাম নম্বরে অচেনা একটি আইডি থেকে মেসেজ আসে। সেখানে সে আমার একটি একান্ত ব্যাক্তিগত ভিডিও এর কিছু অংশ দিয়ে আমাকে এই ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেয়। উল্লেখ্য যে এই ভিডিও অনেক আগেই আমার মোবাইল থেকে ডিলিট করেছিলাম। জানিনা সে কিভাবে পেয়েছে। সে এই ভিডিও র বিনিময়ে টাকা চাচ্ছে এবং আরও ভিডিও দেয়ার দাবী করে বার বার আমাকে হুমকি দিচ্ছে ।আমি তার সাথে নানা ভাবে কথা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্ত বারবার সে আমাকে একই কথা বলতে থাকে। সে মেসেজ গুলো ডিলিট করে দেয়। আমি কিছু স্ক্রিনশট রেখেছি সেগুলো এখানে দিলাম। আমার স্ত্রী এবং আত্মীয়স্বজনদের ভিডিওসহ মেসেজ পাঠাচ্ছে। আমার এখন বেঁচে থাকা অর্থহীন হয়ে উঠছে। অনুগ্রহ করে আমাকে সহযোগিতা করুন !!

এই আবেদন পেয়েই মাঠে নামে সাইবার ক্রাইম ইউনিট, তদন্তে নেমে তারা জানতে পারে, একাধিক সক্রিয় নারী চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন করে প্রতারণা এবং ব্লাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সিআইডি সাইবার টিম এক এমবিবিএস ডাক্তারের এমন আকুতিতে দ্রুত সাড়া দেয়।
অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সাইবার টিম অনুসন্ধান করে জানতে পারে, প্রতারক চক্র প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক পাতিয়ে ইমোতে যোগাযোগ করে ঘনিষ্ঠ হয়। সম্পর্কের এক পর্যায়ে তাদের একান্ত সময়ের ভিডিও, টেক্সট এবং ছবি সেভ করে রাখে।

ভিডিও কলে আপত্তিকর কন্টেন্ট কৌশলে ধারন করে অনলাইনে ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্লাকমেইল করতে থাকে।

সাইবার টিম মহানগরীর কাফরুল এলাকা থেকে এ কাজের অন্যতম হোতা তমালিকা আক্তার নামে এক নারী এবং চট্টগামের খুলশী থেকে আবু সাইদ রনিকে গ্রেফতার করে।

পর্নোগ্রাফির কাজে ব্যবহৃত তাদের কাছ থেকে দুইটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের প্রতারনা এবং ব্লাকমেইলিংয়ের কথা তারা স্বীকার করে। পর্নোগ্রাফি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত তমালিকা আক্তারের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.