নেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ: মির্জা ফখরুল

রাজনীতি

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে দেখে এসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের নেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ।


বিজ্ঞাপন

রোববার বিকালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের কেবিন ব্লকের বাইরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ম্যাডাম বেশ অসুস্থ, অত্যন্ত অসুস্থ। উনি খেতে পারছেন না এখনো। এখনো তিনি পা ভাঁজ করতে পারেন না। তার বাঁ হাত সেই আগের মতই রয়ে গেছে। ওই হাতে কাজ করতে পারছেন না। এক কথায় ম্যাডাম যথেষ্ট অসুস্থ আছেন। আগের চেয়ে খুব বেশি ইম্প্রুভ করেছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি।


বিজ্ঞাপন

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গত ১ এপ্রিল নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৬২১ নম্বর কেবিনে ভর্তি আছেন তিনি। তাকে দেখতে বিকাল ৪টার পর হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তারা যাওয়ার আগেই খালেদা জিয়ার জন্য কিছু ফল ও খাবার হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে বিএনপি নেতারা জানান।

৭৪ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিসসহ বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। বিভিন্ন মামলার শুনানিতে আদালতে হাজির করার সময় তাকে হুইল চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। গতবছর হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়ার সময়ও তাকে হুইল চেয়ারে দেখা গিয়েছিল।

তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার দিন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক বলেছিলেন, গাঁটে ব্যথার পাশাপাশি খালেদার ডায়াবেটিসের মাত্রা ছিল ‘একটু বেশি’। তাছাড়া তার খাওয়ার রুচি কমে গেছে।

পরদিন এক ব্রিফিংয়ে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ‘ক্রমশঃ উন্নতি’ হচ্ছে ।

তবে ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সে সময় বলেছিলেন, ‘চাকরির মায়ায়’ পরিচালক ‘সরকারের ভাষায়’ কথা বলছেন।

খালেদা জিয়াকে দেখে বিকাল ৫টার দিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বার বার যেটা বলেছিলাম যে, তার স্পেশালাইজড ট্রিটমেন্ট দরকার, সেই ট্রিটমেন্ট এখনো শুরু হয়েছে বলে আমাদের মনে হয়নি। আজকেও আমরা বলছি, তার পছন্দ মত বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসকদের দিয়ে তার চিকিৎসা করানো হোক। এটা জরুরি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যাডাম দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বলেছেন যেন দেশবাসী সচেতন হয়, গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে।

প্যারোলে খালেদার মুক্তি বা সংসদে বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, না, এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা করিনি। আমরা তার চিকিৎসার ব্যাপারে এসেছিলাম, তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই তারা তাদের নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছিলেন। এতদিন সেই অনুমতি পাননি।

বিএনপি নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দলের চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *