নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশেষ সেবা সপ্তাহ (৩০ এপ্রিল -০৬ মে ২০২১) উপলক্ষ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসকল কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ বাজার অভিযান এবং ভোক্তা -ব্যবসায়ীদের করণীয় সম্পর্কিত লিফলেট বিলি ও বাজারে মাইকিং এর মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একইসাথে বাজারে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনের জন্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভোক্তা-ব্যবসায়ীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়।

সারাদেশে ৫৫টি মনিটরিং টিম কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ভোক্তাস্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে ১৫৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬,১৩,৫০০/- জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

ঢাকা মহানগরীতে ৮টি মনিটরিং টিম কর্তৃক ১১টি পাইকারী ও খুচরা বাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালিত হয়। রাজধানীর এসকল বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ মাসুম আরেফিন, জনাব বিকাশ চন্দ্র দাস, ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল ও প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রনব কুমার প্রামানিক।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত মোবাইল টিমের সাথে বাজার তদারকি করেন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব রজবী নাহার রজনী, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচাক জনাব রোজিনা সুলতানা ও জনাব মাহমুদা আক্তার।
রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর বাসাবো, খিলগাঁও, মালিবাগ রেলগেট, মধ্য বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা, ভাটারা,গুদারাঘাট, গুলশান -১,ফুলবাড়িয়া এলাকার কাঁচাবাজার, নিত্যপণ্যের দোকান, ফলের আড়ত, বেকারি, পাইকারী জুতার মার্কেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে তরমুজ, সবজি, পেঁয়াজ, ছোলা,ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি,খেজুরসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য যৌক্তিকমূল্যে বিক্রয় হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা হয়। একইসাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মূল্য তালিকা সঠিকভাবে প্রদর্শন, নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রয়,পণ্যের ক্রয় রসিদ সংরক্ষণ, মূল্য তালিকায় প্রদর্শিত মূল্যের সাথে বিক্রয় রসিদের গরমিল, সঠিক ওজন, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য ও ঔষধ, নকল পণ্যসহ ভোক্তাস্বার্থ বিরোধী কোন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। তদারকিকালে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও পণ্যমূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রয়েছে পরিলক্ষিত হয় এবং সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, ছোলা, ডাল,চিনিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য বিক্রি হতে দেখা যায়। এসময় পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা ও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশী দামে পণ্য বিক্রয়, নকল পণ্য তৈরি, নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য তৈরি করার অপরাধে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আরোপ করা হয় এবং এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হতে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, ক্যাবসহ সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিবৃন্দ অধিদপ্তর পরিচালিত বাজার অভিযানে সহযোগিতা প্রদান করেন।
বাজার তদারকিকালে ভোক্তা অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীবৃন্দের মধ্যে লিফলেট, প্যাম্পলেট বিতরণ এবং করোনাকালে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনের জন্য হ্যান্ডমাইকে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়।
এছাড়াও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতকরণসহ স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
বাজার তদারকির পাশাপাশি ঢাকাসহ সারাদেশে টিসিবি’র সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্যসমূহ (ট্রাক সেল) যথাযথ নিয়ম মেনে বিক্রয় হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা হয়।
এ বিষয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নকল-ভেজাল প্রতিরোধ ও মানস্মমত পণ্য নিশ্চিতকরণে অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান এবং প্রচারনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে ও ভোক্তা-ব্যবসায়ীবান্ধব স্থিতিশীল বাজারব্যবস্থা গড়তে সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।
একই সাথে বাজারে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনের জন্য ভোক্তা-ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেন তিনি।