ঢাকায় হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশনের কাজ শুরু

জাতীয় জীবন-যাপন ঢাকা রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক : হজের প্রথম ফ্লাইটে ৪১৭ জন হজযাত্রী সৌদি আরব গমন করেছেন। তাদের সৌদির ইমিগ্রেশন ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হওয়ার কথা থাকলেও কারিগরি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন এক বার্তায় জানান, মক্কার রুট ইনিশিয়েটিভের আওতায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় বিমানের বিজি-৩০০৩ ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দশে ঢাকা ছেড়েছে। এতে ৪১৯ জন হজযাত্রী রয়েছেন। তাদের প্রি-এরাইভাল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে নির্ধারিত ফ্লাইট এর হজযাত্রীরা এ সুবিধা পাবেন। কারিগরি জটিলতার কারণে এ কার্যক্রম খানিকটা বিলম্বিত হলেও হজ ফ্লাইটগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গিয়েছে এবং হজযাত্রীরা জেদ্দায় দ্রুততম সময়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে মক্কা শরীফে পৌঁছেছেন। পরিচালনা করবে বিমান। ৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রি-হজে মোট ১৮৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড ১৫৭ এবং শিডিউল ৩২)। পোস্ট হজে ১১৫টি ফ্লাইট চলবে ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড ৮৬ ও শিডিউল ২৯)। তার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মদিনা ১৮টি ও মদিনা থেকে বাংলাদেশে ১৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯টি ও সিলেট থেকে ৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও এ বছর প্রায় এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে সৌদি আরব যাবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন সাত হাজার ১৯৮ জন। হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা এবং ঢাকা-মদিনা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের চারটি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হজফ্লাইটের উদ্বোধনী দিনে এক হাজার ৪১২ জন হজযাত্রী নিয়ে গেছে বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সের মোট সাতটি ফ্লাইট। এরমধ্যে হজের প্রথম ফ্লাইটে ৪১৭ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যান। সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জের নির্দিষ্ট কাউন্টারে হজযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। সৌদির হজ ও উমরাহ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে এতে উপস্থিত ছিলেন ‘মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির কার্যপরিচালনা পর্ষদে’র বিভিন্ন সদস্য। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সৌদির হজবিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি জানায়, হজযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানানো এবং হজের মৌসুমের যাবতীয় আমল সম্পন্ন হওয়ার পর সব দেশের হাজযাত্রীরা বিদায় নেওয়ার আগ হওয়া পর্যন্ত তাদের অব্যাহত থাকবে। এতে তারা অভ্যর্থনা ও বিদায় দুইটিই জানাবেন। হজ ও উমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালক প্রফেসর আদিল বিন উবাইদ আল-আহমাদি বলেন, কাবাঘরের অতিথিদের প্রতি গোলাপের তোড়া, উন্নত প্যাকেটজাত পবিত্র জমজমের পানি, পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন ভাষা ও ধরনের কপি এবং দেশীয় ভাষায় রচিত ছোট ছোট বিষয়ভিত্তিক হজনির্দেশিকা ও তথ্যগাইড (সুন্দর ও সঠিকভাবে হজ পালনে সহায়ক) উপহার দিয়ে হাজিদের সম্মান ও স্বাগত জানানো হচ্ছে। এ ছাড়া হাজিদের পর্যাপ্ত সম্মান প্রদর্শন ও মানসম্মত সেবা দিতে বিভাগীয় সংশ্লিষ্টদের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.