চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

আন্তর্জাতিক

করোনাভাইরাস

 

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনাভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগ এনে চীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মিসৌরি প্রাথমিক পর্যায়ে সংক্রমণের ঘটনা গোপন করার অভিযোগ এনে চীন সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছে। বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, সার্বভৌম বিদেশি সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে করা এ দেওয়ানি মামলা ধোপে টিকবে না। আর এতে বেইজিং সরকারের উদ্বিগ্ন হওয়ারও কিছু নেই। এ মামলার ব্যাপারে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
রিপাবলিকান সরকার শাসিত মিসৌরির অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক স্মিথ মঙ্গলবার চীনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন।
চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ভাইরাসটির বিস্তারের জন্য চীনকে দোষারোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এ মহামারিতে ভয়ানক প্রাণহানির ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাইরাসটির উৎপত্তি ও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য চীনকে দায়ী করছেন। তিনি বলেছেন, ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে চীনের হাত রয়েছে এবং তারা যদি জেনেশুনে এটি করে থাকে বলে প্রমাণ হয়, তবে এর ফল ভোগ করতে হবে দেশটিকে।
ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দফা বাগযুদ্ধও ঘটে গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে চীনের বিরুদ্ধে মামলা করলো যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি স্টেট। যুক্তরাষ্ট্রের এ রাজ্যটিতে করোনায় এ পর্যন্ত ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, উহানে সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পরও চীন সরকার ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বাস্থ্য ইস্যুতে অবহেলা দেখিয়েছে।
অবহেলাজনিত এই মামলা দায়েরের ব্যাপারে মিসৌরির অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক স্মিথ বলেন, চীনের অভ্যন্তরে করোনাভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ মানুষের কাছ থেকে বিষয়টি লুকিয়েছে, যিনি প্রথম এই ভাইরাসের কথা প্রকাশ করেছেন, তাকে গ্রেফতার করেছে এবং মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর কথা অস্বীকার করেছে। এ কারণে ভাইরাসটি মহামারি আকারে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ চীন বিষয়টি ভালোভাবে প্রকাশ করলে মহামারি এড়ানো যেতো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সার্বভৌম কোনও দেশকে দেওয়ানি মামলায় অভিযুক্ত করা বা শাস্তির আওতায় আনার এখতিয়ার নেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের। তাই চীনের মতো বিদেশি সরকারের বিরুদ্ধে এ মামলা করেও কিছু হবে না। এ ব্যাপারে সেইন্ট জনস বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক অ্যান্থনি সাবিনো বলেন, এ মামলা অনায়াসে ডিসমিস হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এ মামলায় অভিযুক্ত করার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যটিই বড়। এমন মামলা আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পালে কিছুটা হাওয়া দিতে পারে।


বিজ্ঞাপন