নিজস্ব প্রতিবেদক : তেল, মাখন আর সেদ্ধ গাঁজার নির্যাস দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের মাদক ব্রাউনি। দেখতে হুবহু কেকের মতো মাদকটির গ্রাহক মূলত উচ্চবিত্তরা। ব্যবসায় জড়িত অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, এলএসডি নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে মিলেছে এই মাদকের সন্ধান।

দেখতে হুবহু কেক। কেক বানাতে যেসব উপাদান লাগে, তার সবই আছে এতে। তবে এটি বিশেষ ধরনের কেক। রয়েছে বাড়তি কিছু উপাদান। মেশানো হয়েছে তেল, বাটার আর সেদ্ধ গাজার নির্যাস। নাম গাঁজার কেক কিংবা ব্রাউনি। রাজধানীতে নতুন এই মাদকের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ বলছে, বিশেষ এই মাদকটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীরা ব্যবহার করলেও এটি ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভয়ংকর এলএসডি নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে সন্ধান মেলে এর।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিজুল হক বলেন, এলএসডি নামক একটা মাদক আমরা ধরেছি। আসামিদের নিয়ে যখন কাজ করছি তখনই তারা আমাদের জানিয়েছিল বিশেষ ধরনের মাদক দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। গাজাটাকে তেল ও বাটারের সঙ্গে সিদ্ধ করে কেক তৈরি করেন।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে তিন কেজি ব্রাউনি উদ্ধারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা নিজেরা সেবন করতে গিয়ে, একপর্যায়ে জড়িয়েছেন ভয়ংকর এই মাদকের ব্যবসায়।
পুলিশ বলছে, মাদকটি ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণত উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই এর মূল ভোক্তা। নগরকেন্দ্রিক জীবনের পার্টি কালচারে মাতোয়ারা তরুণদের মধ্যে ব্রাউনির জনপ্রিয়তা বেশ।
এইচ এম আজিজুল হক আরও বলেন, আমরা যাদেরকে ধরেছি। তারা উচ্চ পরিবারের সন্তান। এই ব্রাউনিগুলো তিন থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এটা খেলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত নেশা থাকে।
এলএসডির মতো ব্রাউনিও অনলাইনে বিভিন্ন ক্লোজড গ্রপের মাধ্যমে কেনাবেচা হয় বলে তথ্য পাওয়ার দাবি পুলিশের।