ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষের মন্তব্যে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়

শিক্ষাঙ্গন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের পরীক্ষা আগামী ১ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। সশরীরে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। বুধবার (১৮ আগস্ট) সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়কারী ও ঢাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সঙ্গে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ঐ সভায় উপস্থিত ছিলেন সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট) ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার। সভা শেষে তিনি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত নিয়ে লম্বা এক স্ট্যাটাস দেন ফেসবুকে।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ঢাকার সরকারি সাত কলেজের স্থগিত পরীক্ষাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১ সেপ্টেম্বর হতে সশরীরে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফরম ফিলাপ হয়েছে এমন পরীক্ষাসমূহের রুটিনও ২/৩ দিনের ভিতর (মধ্যে) ঘোষণা হবে। যত দ্রুত সম্ভব সকল পরীক্ষা শেষ করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের পূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৪ ঘণ্টার পরীক্ষা ২ ঘণ্টায় নেয়া হবে। ১ম ও ২য় বর্ষে যারা ৩ বিষয়ে ফেল করেছে, তাদের শর্তসাপেক্ষে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী রোববার ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের তালিকা টিকার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট হস্তান্তর করা হবে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘১৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭ টা ৩০ মিনিটে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর সাথে তার বাসভবনে ৭ কলেজের সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার, ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য ও বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সাবিকুন নাহার দেখা করেন। মাননীয় মন্ত্রী দ্রুত পরীক্ষা ও টিকা বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমন্বয়কের সাথে কথা বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ দুুপর ২টায় প্রধান সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামালের সাথে ৭ কলেজের অধ্যক্ষগণ, সংশ্লিষ্ট ডিনগণ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের এক সভায় সিদ্ধান্তসমূহ নেয়া হয়।’
তার এই স্ট্যাটাসে রোববার (২২ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া (রিঅ্যাকশন), ২৫০টির মতো মন্তব্য ও ১৭০ জন শেয়ার করেছেন।
তবে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষের ঐ ফেসবুক স্ট্যাটাসের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। সিরাজুল ইসলাম সজীব নামের এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, ‘স্যার যত দ্রুত সম্ভব সব পরীক্ষার রুটিন দিয়ে দিয়েন। আমরা যারা দূর থেকে এসে ঢাকায় মেস ভাড়া করবো তাদের সুবিধা হবে। আগের বছরেও এমন সিদ্ধান্ত শুনে ঢাকায় বাসা ভাড়া করার পরে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। একটা বাসা ভাড়া করা সহজ কাজ নয়। সেই সাথে টাকার (বিষয়)।’
প্রতি উত্তরে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ লেখেন, ‘আজ হতে দিন গুনে বাসা ঠিক কর। করোনা কারো সাথে কথা বলে আসে না, ওটাই সমস্যা।’
ঐ মন্তব্যেই ফয়সাল আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী অধ্যক্ষকে মেনশন করে লেখেন, ‘স্যার আমাদের ভ্যাকসিনের আওতায় না এনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়াটা কতটুকু যৌক্তিক বলে মনে হয় আপনার কাছে? ঢাবিসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে অনলাইনে পরীক্ষা নিচ্ছে, আপনারা কেন সশরীরে নিচ্ছেন? ঢাবির শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানা হলো আর আমাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন, এটা কতটুকু নৈতিক মনে হচ্ছে আপনার কাছে?’
এরপর অধ্যক্ষ ঐ শিক্ষার্থীর মন্তব্যের জবাবে লেখেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে। বাঁচলেইতো তবে পরীক্ষা। এ পরীক্ষা শেষ হলে ৭/৮ মাস পর আবার পরীক্ষা হবে বলে আশা করছি। সাবধানে ও নিরাপদে থেকো।’অধ্যক্ষের মন্তব্যের এই অংশ ঘিরে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হয়ে টিকার ব্যবস্থা না করে এবং হল না খুলে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা যেসব সমস্যায় পড়ছে তার প্রতি উত্তরে এমন কথা তিনি কীভাবে বলেন?
ঐ মন্তব্যের স্ক্রিনশট ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ ছুটিতে এমনিতেই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। এমন অবস্থায় যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করি তবে আরও দীর্ঘদিন পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সমস্যার সমাধান না করে একজন অভিভাবক হয়ে কীভাবে তিনি আমাদের পরবর্তীতে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য উৎসাহী করতে পারেন, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়।
পরে অবশ্য ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ মন্তব্যের ঐ অংশ সংশোধন করে লেখেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট) ও ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার গণমাধ্যমে বলেন, ‘সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে এমন দাবি তুলে পরীক্ষা আয়োজনের দাবিতে আন্দোলন করেছে। তাদের কথা বিবেচনা করে সাত কলেজ অধ্যক্ষরা সভা করে স্থগিত পরীক্ষাগুলো সশরীরে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন আমার একটি ফেসবুক পোস্টে নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিরূপ মন্তব্য করা হচ্ছে। তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য থেকে এ ধরনের নোংরা কাজ করা হচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সেশনজটের কথা চিন্তা করে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যদি পরীক্ষা দিতে না চায় নিজ নিজ অধ্যক্ষের মাধ্যমে আমাকে জানালে আমরা পরীক্ষা পিছিয়ে দেব।’
টিকা না দিয়ে পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার যেহেতু ১৮ বছর বয়সের সকলকে টিকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সে লক্ষ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশা করি শিক্ষার্থীরা দ্রুত টিকা পেয়ে যাবে। আমরা শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করেছি। দ্রুতই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।


বিজ্ঞাপন