প্রতারক নিজেই সাজলেন আন্তর্জাতিক নৃত্যশিল্পী

Uncategorized অপরাধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ প্রতারক নিজেই সাজলেন আন্তর্জাতিক নৃত্যশিল্পী। প্রেমের অভিনয় করে হাতিয়ে নিতেন টাকা এরপর ধরা খেলেন সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সাইবার টেরোরিজম ইনভেসিটি-স্টিগেশন টিমের হাতে।

মাসুম আহম্মেদ (ছদ্মনাম)।বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য প্রশিক্ষক । এছাড়াও তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন।

সম্প্রতি তাকে টার্গেট করে একটি সাইবার অপরাধী চক্র। তারা মাসুমের নামে ফেইক একাউন্ট খুলে তার বিভিন্ন ছাত্রী ও পরিচিত জনের সাথে ফেসবুকে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে ব্ল্যাকমেইলিং-এর মাধ্যমে কৌশলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছিল। পরবর্তীতে এক ছাত্রীর অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে মাসুম এই প্রতারণার কথা জানতে পারেন।
এই অপরাধের কুশিলবদের আইনের আওতায় আনতে তিনি গত ২৫ জুলাই, ডিএমপি’র কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব প্রাপ্তির সাথে সাথে অজ্ঞাতনামা সাইবার অপরাধীদের গ্রেফতারে মাঠে নামে সিটি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সাইবার টেরোরিজম ইনভেসিটি-স্টিগেশন টিম।

পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলাম ও এএসআই রঞ্জুর ঐকন্তিক প্রচেষ্টায় উক্ত প্রতারককে সনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর গত ৯ আগস্ট পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সাইবার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন টিমের একটি চৌকশ দল নীলফামারী জেলা থেকে অত্র ঘটনার মূল আসামী মোঃ কাওছার (২৬) কে গ্রেফতার করে । এসময় আসামীর নিকট হতে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ একাউন্ট, মোবাইল সেট এবং উক্ত সেটে বাদীর ফেইক ফেসবুক আইডির লিংক সচল অবস্থায় পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জানায় সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সেলিব্রেটিদের একাউন্ট হ্যাক করত। পরবর্তীতে তাদের একান্ত ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণার মাধ্যমে করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিত।

ধৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পলাতক সহযোগী আসামীদের সনাক্তকরণ এবং গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
আমরা মাসুম আহম্মদকে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের এই যুদ্ধে তার বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানাই ।

সেই সাথে সকল ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সতর্কতামূলক একটি বার্তা দিতে চাইঃ
১। Privacy Settings – অপশনটি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, পোস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
২। Two Factor Authentication অপশনটি চালু করুন। একাউন্টের নিরাপত্তার জন্য এর কোন বিকল্প নেই।
৩। স্ট্যাটাস, ছবি ইত্যাদি সতর্কতার সাথে, প্রাইভেসি নিশ্চিত করে শেয়ার করুন। আপনি ফেসবুকে নিজের জীবনাচরণকে যতবেশি উন্মুক্ত করবেন ততবেশি ঝুঁকিতে পড়বেন।

সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় আপনার, আমার সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। তাই আসুন হয়ে আমরা প্রত্যেকে হয়ে উঠি সাইবার সচেতন। সাইবার জগতে আমাদের সকলের বিচরণ নিরাপদ হোক।
শুভকামনা।


Leave a Reply

Your email address will not be published.