জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে কমিউনিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরনে পর্যালোচনা’ শীর্ষক পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Uncategorized সাস্থ্য


নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ রবিবার ৬ নভেম্বর, ঢাকার শেরে বাংলা নগরস্থ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সভাকক্ষে “কমিউনিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরনে পর্যালোচনা’ শীর্ষক একটি পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপি প্রধান অতিথি এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্র হতে যুক্ত ছিলেন সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ও জাতিসংঘের মহাসচিবের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সায়মা ওয়াজেদ।

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার বর্তমান পরিস্থিতির উপর প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন।

মূল আলোচনায় সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের স্বল্পতা প্রকট। তথাপি মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আইন, নীতিমালা ও কৌশলপত্র প্রণয়নসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু প্রণিধানযোগ্য কাজ রয়েছে। এখন প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া।

মানসিক স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি জনগণের ভেতরে মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করাও জরুরী। তিনি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশলপত্রের আলোকে ভবিষ্যত করণীয় ও কর্মকৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

মন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সেবার ব্যাপ্তি বাড়ানো এবং একে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে জনবল গড়ে তোলার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দেয়া জরুরী। সেই সাথে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও তার নিরবচ্ছিন্নতা। বর্তমান সরকার যথেষ্ট মানসিক স্বাস্থ্য বান্ধব বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এশিয়ার এমনকি বিশ্বেও রোল মডেল হতে পারে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বলেন, স্বল্পমেয়াদী ও তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ হিসেবে সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে প্রণীত ৫ম সেক্টর প্রোগ্রামের আওতায় পৃথক একটি অপারেশনাল প্ল্যানের মাধ্যমে উন্নয়ন বাজেটে একে অন্তর্ভুক্তকরণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে পৃথক শাখা সৃষ্টি করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম তৃণমূল পর্যায়ে থেকে শুরু করে টারশিয়ারী পর্যায় পর্যন্ত একটি সুসংহত মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সকল সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য সকল সেক্টর, নাগরিক ও সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগীতা একান্তভাবে প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের আয়োজক এনসিডিসি প্রোগ্রামের লাইন ডাইরেক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ রোবেদ আমিন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. গোলাম রব্বানী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সাইদুর রহমান, কাজী জেবুন্নেছা বেগম, মনোজ কুমার রায় প্রমুখ।


Leave a Reply

Your email address will not be published.