নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ না পেছানোয় ফের শাহবাগ অবরোধ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবিতে গত মঙ্গলবার শাহবাগ মোড় অবরোধ করার পর ১৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় বুধবার দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
এ সময় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে তারা একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে তারা নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।
যাত্রাপথে শাহবাগ মোড় এলাকায় পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা সেখানেই বসে পড়েন। ফলে শাহবাগ মোর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।
এসময় শিক্ষার্থীরা ‘পূজার দিনে নির্বাচনে মানি না, মানি না’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠায় নাই’, ‘শেখ হাসিনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠায় নাই’, ‘৩০ তারিখের নির্বাচন মানি না, মানব না’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।
এর আগে রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন, সংস্কৃতি সম্পাদক আসিফ তালুকদার, সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের ভিপি উৎপল বিশ্বাস, জিএস কাজল দাশ প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন হল সংসদের ভিপি, জিএস, এজিএসসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে ডাকসুর এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ। হাইকোর্টের ওপর বন্দুক রেখে নির্দেশ দিয়ে আমাদের গায়ে আগুন ঢেলে দেবেন না। আপনারা (ইসি) নিজে তার উদ্যোগ নেন, আমাদের হাইকোর্ট দেখাবেন না। আমাদের হাইকোর্ট দেখালে আপনাদের সুপ্রিম কোর্ট দেখিয়ে ছাড়ব।
প্রগতিশীল আইনজীবীদেরে দাবি আপিল বিভাগে তোলার আহ্বান জানিয়ে সাদ্দাম বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে অনতিবিলম্বে তারিখ পরিবর্তন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। এসময় শিক্ষক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন,সশীল সমাজ, ক্রিয়াশীল সমস্ত ছাত্র সংগঠনকে অপমান, অধিকার হরণের বিষয়ে একতাবদ্ধ হওয়ার কথা বলেন তিনি।
যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি মেনে না নেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে বলে মন্তব্য করে আন্দোলনকারীদের অন্যতম সংগঠক এবং জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের ভিপি উৎপল বিশ্বাস বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন বরাবর চিঠি দিয়েছি। তারপরেও কেন দাবি মেনে নেওয়া হলো না- তা আমরা জানতে চাই। একই দিনে সার্বজনীন উৎসব স্বরস্বতী পূজা এবং নির্বাচন কখনো হতে পারে না। কারণ শিক্ষার্থীরাসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে পূজা পালিত হয়। একই তারিখে যদি নির্বাচন হয় তাহলে উৎসবের আনন্দ হবে না। তাই আমরা চাই এ দিনে যেন নির্বাচন না হয়। আমরা গতকাল ১৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরেও কেন আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হলো না, তার সুস্পষ্ট জবাব চাই। আমি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি।
