নিষেধ সত্ত্বেও ওড়াকান্দিতে স্নানোৎসব

এইমাত্র জাতীয় জীবন-যাপন সারাদেশ স্বাস্থ্য

বিশেষ প্রতিবেদক : করোনা মহামারীর কারণে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সববৃৃহৎ বারুণী স্নানোৎসব স্থগিত করার ঘোষণা করার পরও লক্ষাধিক মতুয়া ভক্ত পুণ্যস্নান ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিয়েছেন।
শুক্রবার সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়িতে হাজির হন মতুয়া ভক্তরা। এ সময় তারা কামনা ও বাসনা সাগরে (বড় ধরণের পুকুর) স্নাণ করে বিগত দিনের পাপ মোচন, পুণ্যলাভ ও আগামী দিনের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন। এ সময় ঠাকুরবাড়ির শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা-আর্চনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছর করোনা মহামারীর কারণে ঠাকুরবাড়ি এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে স্নাণ উৎসব ও তিন দিনব্যাপী মেলা বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয় হয়েছিল।
প্রতিবছর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, চীন, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, ভুটানসহ বাংলাদেরশর বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ-লাখ পুন্যার্থীর আগমন ঘটে এ বারুণী স্নানোৎসব ও মেলায়।
শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ইংরেজী ১৮১১ সালের ১১ মার্চ কাশিয়ানী উপজেলা সাফলীডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হরিচাঁদ ঠাকুরের বাল্য নাম ছিল হরি ঠাকুর। কিন্তু ভক্তরা তাকে হরিচাঁদ নামেই ডাকতেন। পিতা যশোবস্ত ঠাকুরের পাঁচ ছেলের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। পরে পার্শ্ববর্তী ওড়াকান্দি গ্রামে বসতি গড়েন হরিচাঁদ ঠাকুর। সেখানে তার অলৌকিকত্ব ও লীলার জন্য প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন।
ঠাকুরবাড়ির সদস্য ও কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলেও যথারীতি শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেহেতু এ বছর বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে না, সে কারণে ভক্তদের তারা ঠাকুরবাড়িতে আসতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তাদের শত অনুরোধ উপক্ষো করে লক্ষাধিক মতুয়া ভক্ত ওড়াকান্দিতে ঠাকুর বাড়িতে স্নান উৎসবে মেতে ওঠে।


বিজ্ঞাপন