মুহূর্তেই সমাধান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এইমাত্র জাতীয় রাজধানী স্বাস্থ্য

মন্দা মোকাবিলায় ৩ বছরের পরিকল্পনা
আরো ৫০ লাখ মানুষ পাবে রেশন কার্ড
ঘরে বসেই তারাবির নামাজ পড়ুন

 

 

বিশেষ প্রতিবেদক : ৩ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলার করোনা পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন। সেখানে জেলার কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে, করোনা পরীক্ষার কোনো ল্যাব তাদের নেই। এজন্য তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ঢাকায় নমুনা পাঠিয়ে সেটার ফল গোপালগঞ্জে পৌঁছাতে অনেকটা সময় পার হয়ে যায়।
এই সমস্যার কথা শুনে খুব দ্রুতই এর সমাধান দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শুরুতে খুলনা ও বরিশালে গোপালগঞ্জ জেলার মানুষের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা যায় কিনা সে বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। কিন্তু বরিশাল ও খুলনা দুই ল্যাবেই নিজেদের বিভাগের জেলাগুলোর নমুনা পরীক্ষার চাপ বেশি থাকার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এরপর তিনি ফরিদপুরের ল্যাবের বিষয়ে খোঁজ নেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গেও তাৎক্ষণিকভাবে যুক্ত হন। সবার সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, ফরিদপুরেই হবে গোপালগঞ্জের নমুনা পরীক্ষা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কিন্তু গোপালগঞ্জের এমপি। সেই হিসেবে আমি এই বিষয়টির সমাধান চাই।
প্রসঙ্গত যে, প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স কথা বলছেন। এসব জেলার সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী। জেলাগুলোর করোনাভাইরাস পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন তিনি।
করোনাভাইরাসে কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার অংশ হিসেবে আরো ৫০ লাখ মানুষকে রেশন কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে গতকাল ঢাকা বিভাগের ৯ জেলার মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে দেওয়া বক্তৃতায় এ সহযোগিতার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে আমরা সহযোগিতা করব। ইতিমধ্যে আমরা তা শুরু করেছি। যারা হাত পেতে খেতে পারে না তাদের জন্য মাত্র ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের বর্তমানে ৫০ লাখ মানুষের জন্য রেশন কার্ড চালু রয়েছে। আমরা আরো ৫০ লাখ মানুষের রেশন কার্ড করে দেব। প্রধানমন্ত্রী জানান, যারা সহযোগিতা পাবেন তাদের তালিকা করা শুরু হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে যারা সহযোগিতা পাওয়ার যোগ্য অর্থাৎ সত্যিকার দুস্থ, দরিদ্র- তাদের নাম যেন তালিকায় থাকে, সঠিক ব্যক্তির কাছে যেন সাহায্য পৌঁছায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কমকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
করোনার কারণে দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে আগামী ৩ বছরে কীভাবে দেশের মানুষকে তা থেকে রক্ষা করা হবে, সেই পরিকল্পনাও নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের শুরুতে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একটা অদৃশ্য শক্তি। এমন একটা ভাইরাস, যাকে কেউ চোখে দেখতে পারে না। কিন্তু তারই প্রভাবে সারাবিশ্ব যেন আজকে একটা জায়গায় চলে এসেছে। এই ভাইরাসের কারণে অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সারাবিশ্ব, জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, বিশ্বব্যাপী প্রচ- অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে। এমনকি দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের করণীয় আছে।’
এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষকে রক্ষা করা বা এই ধরনের দুর্ভিক্ষ বা অর্থনৈতিক যদি মন্দ হয়, তা থেকে দেশকে আমরা কীভাবে রক্ষা করব? এ কথা চিন্তা করে আমরা ইতোমধ্যে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা, আসলে প্রায় বলতে গেলে এক লাখ কোটি টাকার মতো একটা প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরি করেছি। তা আমরা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। কোনোরকম মন্দা আসলে আমি যেন তা মোকাবিলা করতে পারি। আর সেটা শুধু এখনকার জন্যই না, আগামী ৩ অর্থবছরে আমরা কীভাবে দেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রক্ষা করব, সেই পরিকল্পনাও আমরা কিন্তু নিচ্ছি। সেভাবে আমরা প্রত্যেকটা পদক্ষেপ নিয়ে নিচ্ছি। একটু আগাম কিছু কর্মসূচি নিয়ে নিচ্ছি।’
ঘরে বসেই তারাবির নামাজ পড়ুন : করোনাভাইরাস সংক্রমন ঠেকাতে রামজানে ঘরে বসেই তারাবির নামাজ পড়তে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ মুসলিম প্রধান অনেক দেশেই সতর্কতার কারণে মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারাও তারাবির নামাজ ঘরেই পড়ুন। সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমান। ঘরে থাকার কারনে প্রার্থনা করার বেশি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সবাইকে বেশি বেশি প্রার্থনা করার আহবান জানান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নিয়েছিলাম কিন্তু করোনা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার কারণে কিছুটা ধাক্কা আমাদের দেশে আসে আসে। এজন্য আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এবং ২৬ মার্চের অনুষ্ঠান বাতিল করি। জনসমাগম বাদ দিতে এসব করেছি আমরা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব থেকে বড় কথা এই ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে যেখানে খুব বেশি লোক সমাগম সেখানে যেন না যেতে হয়। সবাইকে ঘরে থাকতে হবে এবং কাজ করতে হবে, কাজ ছাড়া তো হবে না। যে কাজগুলোয় খুববেশি লোকের সঙ্গ না হয়, একটু দূরে থেকে করা যায়, সেই কাজগুলো করা যাবে। যে কারণে দেশের শিল্প-কারখনা, ওষুধের শিল্প বা অন্যান্য শিল্প – এগুলো একটা আলোচনার মাধ্যমে তারা চালাতে পারেন। কিন্তু সেখানেও যারা কাজ করবেন, সেখানেও নিজ নিজ সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষি কাজ থেমে থাকলে চলবে না, যেহেতু কৃষি কাজটা খোলা মাঠে হয়, এই সূর্যের তাপ, খোলা বাতাস এটা কিন্তু আমাদের এই করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি দেয়’।


বিজ্ঞাপন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *