উপজেলা নির্বাচন অফিস, রাউজান ও ফটিকছড়ি,উপজেলা সমাজসেবা অফিস, মধুখালী, ফরিদপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা, হবিগঞ্জ অফিসে ঘুষ, দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান

Uncategorized অন্যান্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ !! দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট হতে মঙ্গলবার ১৪ জুন ৬ টি অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ৩ টি অভিযান পরিচালনা করা সহ ৩ টি দপ্তরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে!!


উপজেলা নির্বাচন অফিস, রাউজান ও ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ও ভোটার স্থানান্তর বাবদ ঘুষ দাবির অভিযোগে দুদক, জেকা-চট্টগ্ৰাম-২ এর সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে মঙ্গলবার ১৪ জুন একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এ সময় টীম মেম্বার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ জসীম উদ্দিন এবং জনাব মোঃ খায়রুল ইসলাম ভূইয়া। অভিযান পরিচালনাকালে রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিস সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অফিস হতে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহীতাদের আবেদনপত্র সমূহ, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনাকালে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কমিশন বরাবর শীঘ্রই এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন দাখিল করবে উল্লেখিত দুদক টিম।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস, মধুখালী, ফরিদপুর-এর কর্মচারীর বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও মাদ্রাসার এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ উত্তোলন পূর্বক আত্মসাতের অভিযোগে দুদক, জেকা-ফরিদপুর এর সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ বজলুর রহমান এর নেতৃত্বে আজ অপর একটি অভিযান পরিচালনা করেছে এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদক টিম ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলায় সমাজসেবা কার্যালয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে মো. আইয়ুব আলী, ফুলজান বেগম, আহম্মদ আলীসহ অভিযোগে বর্ণিত অন্যান্যদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয় কিন্তু অফিস প্রধান উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কল্লোল সাহা জেলা সমাজসেবা অফিসে মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় তথ্য সংশ্লিষ্ট কাগজ পত্রাদি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় নি। তবে পরবর্তীতে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে খুব দ্রুতই তিনি তথ্য সরবরাহ করবেন বলে দুদক টিমকে জানান।
এছাড়া অভিযোগে বর্নিত মো. বাবুল আক্তার (ডাবলু), সহকারী সমাজসেবা অফিসার এর বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় তিনি এবং তার স্ত্রী মোসা. আকলিমা খাতুন (ইউনিয়ন সমাজকর্মী) বহুদিন যাবত একই কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। তাদের সম্পদের বিষয়ে সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, মধুখালী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে প্রায় ২০০০ বর্গফুটের একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়ী নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে, বর্তমানে ফিনিসং এর কাজ চলছে। বাড়ীর চর্তুদিকে আর সি পিলার ও ভীম দিয়ে চর্তুদিকে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়ীটি প্রায় ১৪/১৫ শতক জমির উপর অবস্থিত এবং নির্মাণ ব্যয় আনুমানিক ৫০/৬০ লক্ষ টাকা। এছাড়া তার স্ত্রী আকলিমা খাতুনের নামে ৬ শতাংশ এবং তার নামে ৩৫ শতাংশ জমি এবং তার ও তার উপর নির্ভরশীল অন্যান্যদের নামে আরো সহায় সম্পদ আছে মর্মে জানা যায়। প্রাথমিকভাবে সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। উক্ত অভিযানের প্রেক্ষিতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ কমিশন বরাবর প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে এনফোর্সমেন্ট টিম।
শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা, হবিগঞ্জ-এর মেয়রের বিরুদ্ধে পৌর ভবন রং করা, গাড়ি মেরামত, রাস্তা নির্মাণ এবং মশা নিধন কাজে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক,জেকা-হবিগঞ্জ এর সহকারী পরিচালক মোঃ সোয়াইব হোসেন এর নেতৃত্বে মঙ্গলবার ১৪ জুন আরও একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দুদক টিম সরেজমিনে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা পরিদর্শন করে এবং অভিযোগ সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বক্তব্য রেকর্ড করে। টিম অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহপূর্বক তা যাচাই করে। পৌর ভবন, গাড়ি, রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প এবং মশা নিধন কাজে ব্যবহৃত মালামাল যাচাই-বাছাই করে। অভিযানে সংগ্রহীত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন কমিশন উপস্থাপন করবে এনফোর্সমেন্ট টিম।

এছাড়াও দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন-১০৬) আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক কমিশনকে অবহিত করার জন্য ০৩টি দপ্তরে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট হতে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *