রংপুরে  শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৩ উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয় সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 

Uncategorized আইন ও আদালত জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন রংপুর

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ    গতকাল রবিবার  ৮ অক্টোবর ,  বিকেল সাড়ে ৩ টায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে পুলিশ কমিশনার, রংপুর জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান বিপিএম-বার, পিপিএম-বার মহোদয়ের সভাপতিত্বে “শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৩ উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয় সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা” অনুষ্ঠিত হয়।


বিজ্ঞাপন

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার  (হেডকোয়ার্টার্স)  মোঃ আবু বকর সিদ্দীক; উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি)  কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান; উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ)  মোঃ আবু মারুফ হোসেন; উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)  মোঃ মেনহাজুল আলম ও অন্যান্য পদবীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব, ডিজিএফআই; এনএসআই,  আনসার ও ভিডিপি, রংপুর, ডেসকো, রংপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ, রংপুর এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যবৃন্দ।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে আজকের এই সমন্বয়ে সভার আয়োজন। শুরুতেই কম্পিউটার প্রজেক্টর এর মাধ্যমে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৩ উপলক্ষে পূজা মন্ডপ সমূহের নিরাপত্তা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয় সংক্রান্তে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক নির্দেশাবলী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্দেশাবলী, পুলিশ হেডকোয়ার্টার কর্তৃক নির্দেশাবলী, স্পেশাল ব্রাঞ্চ ঢাকা কর্তৃক নির্দেশাবলী প্রদর্শনের পাশাপাশি পাঠ করে শোনানো হয়।

এরপর পুলিশ কমিশনার  সবার নিকট হতে পূজা উদযাপন কমিটির প্রস্তাবনাগুলো শুনেন এবং সে মোতাবেক সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। পরবর্তীতে পুলিশ কমিশনার জানান রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৬৯টি পূজা মন্ডপ স্থাপিত হবে।

উল্লেখিত নির্দেশাবলী ছাড়াও তিনি সবার সকলের জ্ঞাতার্থে জানান, প্রতিমা গুলো অবশ্যই বেষ্টনীর মধ্যে নির্মাণ করতে হবে, প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপে অবশ্যই সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকতে হবে, তবে নাইট ভিশন ক্যামেরা হলে ভালো,  রাতে পূজামন্ডপ এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে,  ইভটিজিং এর মত ঘটনা এড়ানোর জন্য পূজামন্ডপ এলাকায় পুরুষ এবং মহিলা আলাদাভাবে প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা রাখতে হবে,  মাদক ব্যবহার না করার এবং ডিজে পার্টিকে নিরুৎসাহিত করতে হবে,  পূজামন্ডপের আশেপাশে কোন দোকান বসানো যাবে না,  ধর্মীয় অবমাননাকর কোন পোস্ট বা গুজবের কথা জানার সাথে সাথে অবশ্যই পুলিশকে জানাতে হবে,  পূজা উদযাপন কমিটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যগণের নাম ও মোবাইল নাম্বার সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের মোবাইলে পুলিশ কন্ট্রোল রুম, ফায়ার সার্ভিস এর নাম্বার নিশ্চিত করতে হবে এবং তারা পর্যায়ক্রমে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন, আজান বা নামাজের সময় গান-বাজনা বা বিরক্তি উৎপাদনকারী শব্দ করা থেকে বিরত থাকতে হবে; এবং  প্রতিমা বিসর্জন অবশ্যই রাত ৮  মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে, কারণ অধিকাংশ অপরাধ রাত্রিকালীন সময়ে অর্থাৎ রাত  ১১ থেকে ভোর ৫ টার মধ্যে সংঘটিত হয়ে থাকে।

এজন্য তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের সম্মিলনে সম্প্রীতি কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন এ সকল বিষয়াদি আন্তরিকতার সাথে নিজেরা পালনসহ সকলকে অবহিতকরণ এবং পালনের মাধ্যমেই আনন্দ ও উৎসবমুখো পরিবেশে আমারা সকলে মিলে এই শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৩ সমাপ্ত করতে পারব। পরিশেষে তিনি সকলকে শারদীয় দুর্গোৎসবের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে উক্ত মতবিনিয় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *