সিসিক ৩৪ নং ওয়ার্ড বিএনপিতে যোগদিতে মরিয়া আওয়ামিলীগ দোসর খোকন!

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ সিলেট

নিজস্ব প্রতিনিধি (সিলেট)  : বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। এমন নির্দেশ দেন তিনি ।তারেক রহমানের এমন নির্দেশনা পাত্তাই দিচ্ছেনা দলের নেতাকর্মীরা।


বিজ্ঞাপন

সিলেটে বিএনপির জেলা যুবদলের,মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের থানা কমিটিতেও আওয়ামিলীগ পুর্নবাসন নিয়ে চলছে তর্ক বিতর্ক। ঠিক সেই সময়ে মাথা নড়েচড়ে উঠেছে ডেভিল খোকনের।


বিজ্ঞাপন

গত ৫ আগষ্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন সংগ্রামের ফলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা  ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিানা সরকারের পতন হলেও এখনো সিলেট নগরীর বি,আই,ডি,সি এলাকায় খোকনের অটোরিকশার গ্যারেজ এখনো রয়েছে মাদকের আস্থানা ।


বিজ্ঞাপন

সন্ধ্যার পর হলেই গ্যারেজে জমে উঠে আওয়ামিলীগ নেতাদের মদ ও ইয়াবা সেবনের আসর। বিগত সরকার পথনের পর এই খোকন তার নিজ বাসায় অনেক আওয়ামিলীগ নেতাকে আশ্রয় দিয়ে বড় অংকের চুক্তির মাধ্যমে ভারতে প্রবেশের জন্য সীমান্ত পাড় করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ত্যাগী নেতাকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিক্রমপুরে ফজলুর রহমানের ছেলে শফিকুর রহমান খোকন ।স্থায়ী ঠিকানা বিক্রমপুরে হলেও তিনি দীর্ঘদিন থেকে সিলেটের খাদিমপাড়া ৬নং রোডের মিরমহল্লা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন ।দীর্ঘদিন ঐ এলাকায় বসবাস করার কারণে হয়েছেন সেই এলাকার ভোটার । মিরমহল্লা এলাকা বর্তমানে এলাকাটি সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৪ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত।

বিগত সৈরাচার সরকারের স্থানীয় আওয়ামিলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরে তিনি। সিলেট মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মেজরটিলা এলাকার ত্রাস জাহাঙ্গীরের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলে খোকন। হয়ে উঠেন জাহাঙ্গীরের সকল অপকর্মের একান্ত সহযোগী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় জমিদখল, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজি, টিলার মাটি কাটা নিয়ন্ত্রণ করতো এই খোকন। বিগত সৈরাচার সরকারের শাসন আমলে মেজরটিলা থেকে খাদিমপাড়া এলাকায় কেউ বাসা বাড়ি করতে গেলে জাহাঙ্গীর বাহিনীকে চাঁদা না দিয়ে নিজের জমির উপরে কোন কাজই করতে পারতেন না ।

জাহাঙ্গীরের প্রতিনিধি হয়ে চাঁদার জন্য হাজির হতেন এই শফিকুর রহমান খোকন। চাহিদা মতো চাঁদা না পেলে খোকনের নেতৃত্বে বাড়ির কিংবা জমির মালিক কে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে উঠিয়ে নিয়ে যেতেন জাহাঙ্গীরের গোপন টর্চার সেলে। সেখানে খোকনের নেতৃত্বে চালানো হতো শারীরিক নির্যাতন। হত্যার হুমকি দিয়ে ঐ ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে চাহিদামতো চাঁদা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। মামলা না করতে নেওয়া হতো সাদা স্ট্যাম্পে সাক্ষর ।এরকম অভিযোগের শেষ নেই খোকনের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায় যে, মেজরটিলা এলাকায় জোরপূর্বক কয়েকটি টিলা জবর দখল করে সেই সব টিলা কেটে প্লট আকারে বিক্রি করে জাহাঙ্গির বাহিনী কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন খোকনের নেতৃত্বে।

গত বছরের শেষ দিকে একটি টিলা ধসের ঘটনায় জাহাঙ্গির বাহিনীর নাম উঠিলে, তখন এলাকাবাসী বিক্ষুদ্ধ হয়ে নানা রকম ক্ষোভ প্রকাশ করলে ভয়ে কেউই মুখ খোলেনি। খোকন ও জাহাঙ্গীর মিলে ধামাচাপা দিয়ে দেয়। জাহাঙ্গীর তখন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ডামি নির্বাচনে বিনাভোটে পাস করা ৩৫ নং ওয়ার্ডের কউন্সিলর ছিলেন। জাহাঙ্গীর কাউন্সিলর হওয়ায় খোকন আরো ব্যাপরোয়া হয়ে উঠে।প্রশাসন ম্যানেজ করা খোকনের দায়িত্বে ছিলো। খোকনের নেতৃত্বে বাড়তে থাকে চাঁদাবাজি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন বলেন, এক সময়ে আওয়ামিলীগের চাঁদাবাজ খোকন নিজের দল পাল্টাতে স্থানীয় কিছু (বিএনপি ও যুবদল ) নেতাদের সাথে স্বু’সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তাদের সাথে সম্পর্কের সুযোগ কাজে লাগিয়ে খোকন এখন দলবদলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিপয় কিছু অসাধু বিএনপি ও যুবদল নেতারা চাঁদাবাজ খোকনকে বিএনপিতে পূর্নবাসন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খোকনের সাথে তামাবিল রোডের সকল চাঁদাবাজ ও চোরাকারবারি সাখে রয়েছে স্বু-সম্পর্ক ।জাহাঙ্গীরের সকল অবৈধ জমিজমা সম্বন্ধে অবগত রয়েছে খোকন ।এছাড়া জাহাঙ্গীরের সাথে আমত ফূর্তিবাজিতে যে সকল নারীরা রয়েছে সেই সকল নারীদের সাথে খোকনের রয়েছে যোগাযোগ। খোকনের মাধ্যমে ক্ষতিপয় নামধারী অসাধু নেতারা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ফায়দা লুঠার জন্য তাকে বিএনপিতে যোগদানের জন্য সহযোগিতা করছেন।

খোকনকে যারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন বিগত সরকারের আমলে তারাই আওয়ামিলীগের নেতাদের সাথে লিয়াজু রেখে চলতেন এবং আওয়ামিলীগ নেতাদের মাধ্যমে সুযোগ সুবিধা ভোগ করতেন।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে,এই খোকনকে সিলেট মহানগর বিএনপির ৩৪নং ওয়ার্ড বিএনপিতে পূর্ণবাসন করতে অর্থনৈতিক লেনদেন করেছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আওয়ামিলীগের চিহ্নিত এই চাঁদাবাজকে বিএনপিতে পূর্ণবাসন করা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে ।

খোকনের ব্যবহিত ফেইসবুক আইডি ঘুরে দেখা যায়, আওয়ামিলীগ নেতাদের বন্ধনায় ভরপুর আইডি রাতারাতি তা পাল্টে গেছে। বর্তমানে খোকন নিজের ফেইসবুক আইডিতে (বিএনপির) বিভিন্ন রকম গুণকির্তন করে যাচ্ছেন। যাতে প্রতিয়মান হয় তিনি বিএনপি সমর্থনকারী।

অন্যদিকে আওয়ামিলীগ নেতাদের সুনামের সহিত পুর্নবাসনের চেষ্টা চালাচ্ছে ক্ষতিপয় অসাধু সুবিধাভোগী নামধারী নেতারা।

দীর্ঘ দেড় দশকের মাফিয়া শাসনকালে তরুণ প্রজন্মের প্রায় সাড়ে তিন কোটি ভোটারসহ কেউ ভোট দিতে পারেনি। এসব ভোটারদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্যে সবার আগে প্রয়োজন জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের পূর্বে প্রয়োজন দলের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ডেভিলদের সহযোগী ক্ষতিপয় ব্যাক্তিদের ।ত্যাগী নেতাদের ভাষ্য আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন জনগণ মেনে নেবে না ।শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতিবিধরা মেনে নেবে না।

এদিকে ত্যাগী নির্যাতিত নেতারা বর্তমান রাজনীতিতে অবহেলার পাত্র হচ্ছেন । ত্যাগীদের কমিটি থেকে সড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সু-কৌশলের মাধ্যমে ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *