অভয়নগরে সরকারি রাস্তার পাশ্বের গাছ কেঁটে নেওয়ার অভিযোগে রিপোর্ট করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

Uncategorized অপরাধ


অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ যশোরের অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের মানবাধিকারের নেতা হাদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার (এলজিইডি)’র পিচের পাশ্বের ২টি গাছ কাঁটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের অতিয়ার মল্লিকের ছেলে মানবাধিকার কর্মী হাদিউজ্জামান মল্লিক। উপজেলার পাথালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির বিপরীত পাশে সরকারি রাস্তা সংলগ্ন ২টি আম গাছ কেঁটে নিয়েছেন। বিগত শনিবার সকালে হাদিউজ্জামান মল্লিক তার লোক জন নিয়ে আমগাছ ২টি কাঁটার সময় এলাকাবাসীরা নিষেধ করেন। কিন্তু তারা কোন কথা কর্ণপাত না করে ওই গাছ কাঁটতে থাকেন।

সরোজমিনে গত ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি রাস্তার পাশ্বে থাকা দুটি গাছের মধ্যে একটি গাছ কাঁটা হয়ে গেছে ও অপর একটি গাছ কিছু লোক কাঁটছেন।

এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী হাদিউজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের যশোর জেলা শাখার সিনিয়ার সহ-সভাপতি পদে আছি। আমার মা মথুরাপুরে গ্রামের বাড়ির রাস্তা সংলগ্ন নিজেদের রোপনকৃত ২টি আমগাছ শ্রমিক দিয়ে কেটে নিয়েছে। সরকারি রাস্তা ছোট্ট থাকা অবস্থায় ওই গাছ গুলো আমাদের রোপন করা ছিলো। এই ব্যাপারটি নিয়ে মুঠোফোনে কথা বলেন ২জন সাংবাদিক মিঠুন দত্ত ও রাব্বি তরফদার। তারা আমাকে টাকা নিয়ে নওয়াপাড়া শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেটে যাওয়ার জন্য বলেন। আমি রাজি না হওয়ায় আমার সম্মান নষ্ট করার জন্য অভয়নগরের বাণী নামক একটি ফেসবুক পেজে “অভয়নগরে মানবাধিকার কর্মী কাটলেন সরকারি রাস্তার গাছ” এই শিরোনামে বিভিন্ন কথা লেখেন। এজন্য আমি অভয়নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, হাদিউজ্জামানের জমিতে থাকা একটি কদমগাছ কেটে নিয়ে গেছে। একই স্থানে থাকা সরকারি এলজিইডি’র রাস্তার পাশ্বের আমগাছটির ডালপালা কেটে নিয়ে গেছে। এ অবস্থায় গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে জমি মেপে দেখা গেছে, একটি গাছ হাদিউজ্জামানের জমিতে এবং আর একটি গাছ সরকারি রাস্তার জমিতে থাকায় তা কাটতে নিষেধ করা হয়েছে।

অভয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার গিয়ে দেখেন একটি গাছ কাঁটা হয়ে গেছে। অপর একটি গাছ কাঁটাতে বাকি ছিলো। ওই সময়ই গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জমি মেপে কাঁটা গাছ যদি সরকারি রাস্তার জায়গায় হয়, তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক যশোর পত্রিকার অভয়নগর প্রতিনিধি মিঠুন দত্ত জানান, সরকারি এলজিইডি’র রাস্তার পাশ্বের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে শ্রীধরপুর ইউনিয়নের হাদিউজ্জামান নামের এক মানবাধিকারের নেতা অভয়নগর থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। নিউজ করলে যদি মিথ্যা অভিযোগ অথবা মামলা হয় তদন্ত ছাড়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। তাহলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। ফলে সমাজে দুর্নীতি, অনিয়মের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সরকারের সকল উন্নয়ন কার্মকান্ড ব্যহত হবে। একজন মানবাধিকার কর্মী যদি সরকারি রাস্তার গাছ কেটে নেই, তাহলে সাধারণ মানুষ কি করবে?

অভয়নগর থানার এস আই আকরাম হোসেন বলেন, দুই জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হাদিউজ্জামান নামের এক ব্যাক্তি চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published.