কক্সবাজার জেলার বাকখালী নদীর চাকমারকুল পয়েন্টে ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান

Uncategorized আইন ও আদালত

 !! দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট হতে গতকাল সোমবার ৫ টি অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ২ টি অভিযান পরিচালনা করা সহ ৩ টি দপ্তরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে !!

নিজস্ব প্রতিবেদক  ঃ কক্সবাজার জেলার বাকখালী নদীর চাকমারকুল পয়েন্টে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ড্রেজার ও এক্সকাভেটর দিয়ে এক জায়গায় বালুমহালের ইজারা নিয়ে আরও দুই জায়গায় বালু উত্তোলনের অভিযোগে গতকাল সোমবার ৪ জুলাই, দুদক, সজেকা, কক্সবাজার এর সহকারী পরিচালক মো: রিয়াজ উদ্দিন এর নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনা কালে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট স্থানে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় ইজারাদার মোঃ খালেদ হোসেন টাপুকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অবৈধ ড্রেজার মেশিন ভেঙে ফেলার আদেশ দেন মোবাইল কোর্ট। এছাড়াও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে এনফোর্সমেন্ট টিম। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশন বরাবরে শীঘ্রই প্রতিবেদন দাখিল করবে টিম।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সরকারের শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে চোরাই পথে ভারত হতে সেগুন কাঠ আনায়নের অভিযোগে দুদক, সজেকা, রাঙ্গামাটি-এর উপ-পরিচালক মো: শফি উল্লাহ এর নেতৃত্বে ৬ সদস্য নিয়ে গঠিত টিম গতকাল আরও একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭১টি ফ্রি পারমিটের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, উপবিভাগীয় বন সংরক্ষকের কার্যালয় সাউথ হতে ৭১ টি ফ্রি পারমিটের মাধ্যমে ৩,০১,৯৮৩ ঘনফুট সেগুন কাঠ কাটার অনুমতি প্রদান করা হয়। বন বিভাগ কর্তৃক ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ফ্রি পারমিট প্রদান করলেও এতদিন পর্যন্ত উক্ত কাঠ হরিণাতে পড়েছিলো। এ বিষয়ে টিম আরও জানতে পারে যে, উক্ত কাঠ ভারত থেকে চোরাই পথে আসায় মৌখিকভাবে আটক ছিলো। উপ-বিভাগীয় বন সংরক্ষকের কার্যালয় সাউথ এর উপবিভাগীয় বন সংরক্ষক উক্ত পারমিটের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন। দীর্ঘদিন পর উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধির কোন কারণ টিমকে তিনি দেখাতে পারেননি। এছাড়া, বিজিবি হরিণা জোনে সরেজমিন অভিযানকালে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, ছোট হরিণায় যে সমস্ত জোত থেকে সেগুন কাঠ উপরোল্লিখিত ৭১ টি ফ্রি পারমিটের মাধ্যমে কাটা হয়েছে সেগুলো অনেক দুর্গম এলাকায়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপবিভাগীয় বন সংরক্ষক (দক্ষিণ) বর্তমানে সিলেট বন বিভাগে কর্মরত এবং ঐ সময়ে কর্মরত সহকারী বন সংরক্ষক এবং রেঞ্জ অফিসার জনাব নাজমুল হাসান (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) জোতে না গিয়েই ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ফ্রি পারমিট, খাড়া মার্কা, পাশ মার্কা দিয়ে অবৈধভাবে সেগুন কাঠ বাহিরে থেকে আনার সহযোগিতা করেছেন এবং বর্তমানে কর্মরত উপবিভাগীয় বনসংরক্ষক দক্ষিণের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ দীর্ঘ ৪ বছর পর ক্ষমতার অপ-ব্যবহারের মাধ্যমে বিধি বর্হিভূত ও অন্যায়ভাবে ফ্রি পারমিটের সময় বৃদ্ধি করে ১,৭৫,০০০ সিএফটি কাঠ রাঙ্গামাটিতে এনে সেখান থেকে প্রায় ৫৬,০০০ সিএফটি কাঠ টিপির মাধ্যমে অন্যত্র প্রেরনে সহযোগিতা করেছেন। এখন পর্যন্ত রাঙ্গামাটির রাজবাড়ী ঘাটে ও শিল্পকলা ঘাটে প্রায় ১,২৫,০০০ সিএফটি কাঠ অন্যত্র স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। এনফোর্সমেন্ট পরিচালনাকারী টীম অভিযান পরিচালনা কালে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে শীঘ্রই কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করবে এনফোর্সমেন্ট টিম।

এছাড়াও দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন- ১০৬) আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণপূর্ক কমিশনকে অবহিত করার জন্য ০৩টি দপ্তরে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *