মো:রফিকুল ইসলাম,(নড়াইল) : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ১০টি বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার ঈদের রাতে উপজেলার সত্রহাজারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সত্রহাজিরা গ্রামের অন্তত ১০টি বাড়ির বিভিন্ন দেয়াল ভাঙা,টিনের বেড়ায় কোপানোর দাগ স্পষ্ট। ঘরের মধ্যে থাকা টিভি,ফ্রিজ,আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের ভাঙা অংশ পড়ে আছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের (সত্রহাজারি) বর্তমান সদস্য সাঈদ মিনারের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে সাবেক সদস্য আক্তার কাজীর। প্রায় দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ঈদের দিন রাত ৮টার দিকে আতর্কিতভাবে আক্তার কাজী তার লোকজন নিয়ে সাঈদ মিনা সমর্থক জলিল মোল্যা,মফিজুর মোল্যা, মান্নান মোল্যা,নজরুল মোল্যা,আবু তাহের মিনা, জব্বার মিনা,তারিকুল মিনা ও নাঈম মিনাসহ অন্তত ১০টি পরিবারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে এ ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
ভুক্তভোগীদের একজন জলিল মোল্যা বলেন,বাজার থেকে বাড়ি আইসে দেখি,আমার ঘরে আর কোনো কিচ্ছুই নেই। বাক্সের তালা খোলা,ভেতরে থাকা ৫১ হাজার টাকা নেই। ব্যবসা করে এই টাকা গুছাইছিলাম একটা ঘর দেওয়ার জন্য। বউয়ের একটা চেইন আর কানের দুল ছিল,তাও নিয়ে গেছে। ঘরে থাকা টিভি,ফ্রিজসহ মালামাল ভাঙচুর করে রেখে গেছে। মফিজুর মোল্যা নামে একজন বলেন,আমিও রাজনীতি করি না।
শুধুমাত্র মিনা বংশের সঙ্গে আত্মীয়তা হওয়ায় আমার বাড়িতে ভাঙচুর করেছে কাজীরা। ঘরে থাকা ২১ হাজার নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং ৫ বস্তা ধনিয়া,৫ বস্তা কলাই ও ১০ বস্তা ধান লুট করে নিয়ে গেছে। আমি খুব গরিব মানুষ, কামলা খেটে খাই। খায়ে না খায়ে এসব বানাইছিলাম।
লেকজান বেগম বলেন,গতকাল রাতে কোনো কারণ ছাড়াই আক্তার কাজী লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে সব মালামাল ভাঙচুর করেছে। বাড়িতে থাকা নগদ ৩ লাখ টাকা,৩ ভরির মতো স্বর্ণ নিয়ে গেছে। এখনো আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি,যেকোনো সময় আবারও হামলা হতে পারে। প্রশাসনের কাছে আমরা এর বিচার চাই। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আক্তার কাজী।
তিনি মোবাইল ফোনে বলেন,আমি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না। আমি ওখানে (ঘটনাস্থলে) যাইনি। ওরা যে অভিযোগ করছে, তা ভিত্তিহীন। তবে শুনেছি,বাড়িঘর ভাঙচুর হয়ছে এটা সত্য,কিন্তু কোনো লুটপাট হয়নি। আর এ ভাঙচুরও আমার লোকে করেনি। কারা করেছে জানি না।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লোহাগড়া থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, আধিপত্য নিয়ে ওই এলাকায় দুই ইউপি সদ্যসের দীর্ঘদিনের বিরোধ আছে। এর আগে দুই পক্ষের করা মামলা থানায় রয়েছে। গতকালের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।